শিরোনাম :

10/trending/recent

Hot Widget

অনুসন্ধান ফলাফল পেতে এখানে টাইপ করুন !

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: নতুন প্রজন্মের প্রেরণার উৎস

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-২০২২। ১৯৭১সালের এই দিনে বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের ময়দানে তার ঐতিহাসিক  ভাষণ দেন। গোটা জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল এই মহেন্দ্র ক্ষনের জন্য। কি বলবেন বঙ্গবন্ধু  তার ভাষণে, তিনি কি স্বাধীনতার ডাক দেবেন? উৎকন্ঠিত ছিলেন গোটা বিশ্বনেতৃবৃন্দ অবশেষে গণ সূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অমর কবিতা শুনিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

১৯৭১ এর ৭ মার্চের পড়ন্ত বিকেলের অপ্রতিরোধ্য বজ্রকণ্ঠ, দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে। ‘শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে’ আমাদের বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’এটিই আজ বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের প্রামান্য দলিল। 

ঐতিহাসিক এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতারও ডাক দিলেন,-পাকিস্তানি জান্তার সাথে আলোচনার পথও খোলা রাখলেন। সমকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ বুঝে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর অমর বাণীখানি। আর তাইতো বঙ্গবন্ধু প্রেমিক, কবি নির্মলেন্দু গুণ ঢাকার রেসকোর্স মাঠে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণের অনবদ্য চিত্র তুলে ধরেছেন তাঁর "‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হল’"- কবিতায়। কবি লিখেছেন , ‘সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।’

বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণখানি ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।সেই থেকে এটি বাঙ্গালির আর বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সাক্ষী থেকে হয়ে গেলো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামান্য দলিল।এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেসকো এই প্রথম কোনো ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়- যা ছিল অলিখিত এবং সেটি বঙ্গবন্ধুর। 

বিশ্ব ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মনোনয়ন সম্পর্কে সুপারিশ করে ইউনেসকোর  মহাপরিচালক ইরিনা বকোভা বলেছিলেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, এ কর্মসূচি পরিচালিত হওয়া উচিত দালিলিক, ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য। যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংলাপ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির চেতনা তাদের মনে লালন করতে পারে।’

সেই চেতনা থেকে ১৯৯২ সালে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম চালু করে ইউনেসকো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দালিলিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সচেতনতার তাগিদে এটি চালু হয়।

ইউনেসকোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড তালিকায় থাকে ঐতিহ্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক নিদর্শন। এই তালিকায় ঠাঁই পেতে হলে থাকতে হয় পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক প্রভাব। যেটির পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। ইউনেস্কো কতৃক স্বীকৃত বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের এই দলিল বর্তমান নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে বেচে থাকবে অনন্তকাল।


লেখক: মোঃ এমদাদুল হক বাবুল 

সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ও প্রভাষক, ইতিহাসবিভাগ,পূর্বধলা সরকারি কলেজ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad