৮ মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি ৬৮%, এগিয়ে পদ্মাসেতু - Purbakantho

শিরোনামঃ

মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

৮ মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি ৬৮%, এগিয়ে পদ্মাসেতু

ঢাকা: অগ্রাধিকার পাওয়া দেশের আট মেগা প্রকল্পে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা আছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। আর আট প্রকল্পের মধ্যে বাস্তবায়নের দিক দিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পদ্মাসেতু প্রকল্প।

প্রকল্পগুলোর শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

অগ্রাধিকার পাওয়া এই আট মেগা প্রকল্প হলো— পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

পদ্মাসেতু প্রকল্প

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এখন আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটি।

গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৯১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। আগামী জুনে যানচলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় ৪৯ হাজার ৭২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে, আর ভৌত অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

মেট্রোরেল

২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে। শুরু থেকে  ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৩৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এই প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ০৭ শতাংশ। আর সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ০৪ শতাংশে। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়ায় এ অংশ নির্মাণে প্রকল্পটি সংশোধন করার কারণে ব্যয় বাড়ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ

৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৫৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে, ভৌত অগ্রগতি ৫৪ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র

৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার  ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে প্রকল্পটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প

১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর

৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধাদির উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে চলছে কাজ। এই প্রকল্পে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ০৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৭২ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প

১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্পটি। এর মেয়াদ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই থেকে। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৩৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, তবে ভৌত অগ্রগতির পরিমাণ অনেক বেশি— প্রায় ৬৮ শতাংশ।

সম্প্রতি শ্রীলংকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে দেশটির মেগা প্রকল্পগুলোর কথা। বাংলাদেশের মেগাপ্রকল্পগুলোকেও অনেকে এ ক্ষেত্রে তুলনায় নিয়ে আসতে চান। তবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ আর শ্রীলংকার মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ড. শামসুল সারাবাংলাকে বলেন, শ্রীলংকা প্রকল্প নেওয়ার আগে ঠিকমতো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেনি। ফলে তাদের গভীর সমুদ্রবন্দর কার্যকর হয়নি। `শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চীনের কাছে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন কোনো মেগা প্রকল্প নেয়নি যেগুলো কার্যকর হবে না।' বরং এসব প্রকল্প শেষ হলে অর্থনীতি আরেক ধাপ উচ্চতায় পৌঁছাবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এসব প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত এসব প্রকল্প বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। `বিভিন্ন পর্যায় থেকেই তদারকি হচ্ছে।'

from Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment https://ift.tt/gjbcWrf
via IFTTT

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন