ধানের নাম ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’, পরীক্ষামূলক চাষেই খুশি কৃষক - Purbakantho

শিরোনামঃ

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২

ধানের নাম ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’, পরীক্ষামূলক চাষেই খুশি কৃষক

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে চলতি বোরো মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’ নামে ধানের একটি নতুন জাতের। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জিংক সমৃদ্ধ এই ধান আবিষ্কার করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’ নাম দিয়ে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরু করে। 
এই ধানের ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরাও। নতুন এই জাতের ধান উদ্ভাবনের পর কৃষি বিভাগ ও হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের সহায়তায় জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ১৩ একর জমিতে চাষ করেছেন ৩৯ জন কৃষক। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান স্বল্প খরচে চাষের ১৪৮ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। এ ধানের চালের আকৃতি মাঝারি চিকন, পুষ্টিগুণে ভরা ও খেতে সুস্বাদু। 

রোগবালাই মুক্ত এবং সাধারণ পরিচর্যায় বঙ্গবন্ধু ধান হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৬ থেকে ৭ টন। ভালো ফলন ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় খুশি কৃষকরা। পাশাপাশি ক্ষেতে ধানের ফলন দেখে আগামী বোরো মৌসুমে বঙ্গবন্ধু ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্য কৃষকরাও। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার অর্জুনডারা এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এক একর জমিতে বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান আবাদ করেছি। 

ধান ক্ষেতে কোনো রোগের আক্রমণ না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ধান অনেকটা চিকন জাতের হওয়ায় বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যাবে। রাজারহাট উপজেলার কাশেম বাজার এলাকার আবুল কাশেম বলেন, ‘নতুন জাতের এই ধান দেড় একর জমিতে লাগিয়েছি। অর্ধেক ধান কেটে ঘরে তুলেছি। ২৮ জাতের ধানের থেকে অনেকটাই ভালো ফলন হয়েছে। ‘২৮ জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ও বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে।, 

আগামী মৌসুম আমার সব জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান চাষ করবো।’ উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘এই জাতের ধানের ফলন অন্য জাতের ধানের চেয়ে বেশি হয়েছে। এ কারণে আমরা আগামী মৌসুমে কৃষকদের বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।’ হারভেস্ট প্লাসের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মন্ডল জানান, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান থেকেই এ ধানের বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন। ‘সারা দেশে এ জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।, 

কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবসসহ ধান কাটার উৎসবের আয়োজন করা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. এমদাদ হোসেন শেখ জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জিংক সমৃদ্ধ এ ধান উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবারই প্রথম রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এই ধানের চাষ হয়েছে। ‘ফলাফল অন্য জাতের ধানের চেয়ে অনেক ভালো। এই ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে।, 

সাধারণ কৃষকরা জানান, বীজসহ অন্য সহায়তা দেওয়া হলে আগামী বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল এ জাতের ধান চাষ আরও বাড়বে। ‘এতে লাভবান হতে পারবেন তারা।,

 The post appeared first on Sarabangla http://dlvr.it/SQHHbx

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন