ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৪১ শতাংশ - Purbakantho

শিরোনামঃ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের গড় অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৪১ শতাংশ

ঢাকা: পদ্মা সেতুসহ মেগা ৮ প্রকল্পের গড় ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৪১ শতাংশ। এপ্রিল মাস পর্যন্ত তথ্য বলছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। প্রকল্পগুলোর অনুকূলে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর আর্থিক অগ্রগতিও ৭২ শতাংশ।

গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফাস্ট ট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া এই প্রকল্পগুলো হলো— পদ্মা সেতু, মেট্রেরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মায়ানমারের কাছের ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলো নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের বড় সামর্থ্য প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, তারই প্রমাণ এই পদ্মা সেতু। অন্য মেগা প্রকল্পগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে। আশা করছি, এগুলোর কাজ যথাযসময়েই শেষ হবে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে আমাদেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যাবে।

পদ্মা সেতু

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন এবং সবশেষ ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৭ হাজার ৩৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি এপ্রিল পর্যন্ত ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে এরই মধ্যে সেতুটির সব কাজ শেষ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ২৬ জুন যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ২৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ভৌত অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

মেট্রোরেল

২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে। শুরু থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৮৪৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশে। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ পরবর্তী সময়ে যোগ হওয়ায় এ অংশ নির্মাণে প্রকল্পটি সংশোধন করার কারণে ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ

৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি। এটির বাস্তবায়ন মেয়াদ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশে। এছাড়া প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র

৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে এই মেগা প্রকল্পের। এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।,

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প

১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৫৯ শতাংশে। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।,

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর

৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে কাজ। এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৩০ শতাংশ, ভৌত অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ।,

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ

১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু-মিয়ানমারের কাছের ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পটির মেয়াদ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই থেকে। আর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের জুনে। তবে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৩ কোটি ৫৩৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে।,

from Sarabangla https://ift.tt/8SpN0v5

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন