‘আ.লীগই একমাত্র দল দেশ পরিচালনায় যাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’ - Purbakantho

শিরোনামঃ

শনিবার, ১১ জুন, ২০২২

‘আ.লীগই একমাত্র দল দেশ পরিচালনায় যাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল দেশ পরিচালনা করে যাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সাধারণত এটা হয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে এসে দেশের জন্য কাজ করেছে বলেই জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং ভোট বেড়েছে।,

শনিবার (১১ জুন) দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক/এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় আজকের এই দিনে মুক্তি পাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। গণভবনে দলের নেতারাসহ অন্যান্যরা একে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মু. আশরাফ সিদ্দিকী বিটু।,

১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সবসময় উজানে নাও ঠেলে চলতে হয়েছে। যতবার গ্রেফতার হয়েছি ততবারই নেতার্কমীদের উদ্দেশে চিঠি দিয়েছি। চিঠির মাধ্যেমে নেতাকর্মীদের নিদের্শনা দিয়েছি। দেশবাসীকে চিঠি দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা সব সময় ঠিক থাকে। এটা বাবার সময়ও দেখেছি।’

কারাবন্দী থাকার সময় দেশ নিয়ে পরিকল্পনার করার কথা জানিয়ে গত তিন বারের সরকার প্রধান বলেন, ‘জেলে বসে দেশ কীভাবে চালাব, দল কীভাবে চালাব- সেসব লিখে রেখেছিলাম। কীভাবে উন্নয়ন করব সেসব পরিকল্পনা লিখে রাখি।’

অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া অ্যারেস্ট হলো অনেক পরে এবং তাকে রাখল নতুন বিল্ডিংয়ের ওখানে। স্পিকারের জন্য যে বাসভবন। আর আমার জন্য পড়ল যেটা পরিত্যক্ত ছিল। নোংরা, ময়লা, ছেঁড়া একটা গদি। তাও আবার ইঁদুরে খাওয়া। খাটখানা বসতে পারিনি। সেটা ভেঙে গেল। আবার জোড়া দিল। আমি বললাম, জেলখানার কোডে তো এটা হয় না। আমি তো জানি জেলখানার কোডে আমি ডিভিশন পাই। আর খালেদা জিয়াকে বোধহয় নিছে এই জন্য যে, তাকে না নিলে ইমেজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

এক/এগারোর সময় সাবজেলে থাকার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগ মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ২৫ লাখ সিগনেচার সংগ্রহ করে, সেটা আমার মুক্তির দাবিতে পাঠাল। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের মতো সংগঠন ছিল বলেই সম্ভব। আর তাছাড়া কেউ এটা করতে পারেনি, কখনো করেনি। দ্বিতীয় কথা হলো- আমাদের ছাত্র-শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় প্রতিবাদ শুরু করল। এই আন্দোলনেও তো অনেক কাজে গেলেছে। কাজেই আওয়ামী লীগের ক্রাইসিসে নেতাকর্মীরা সব সময় ঠিক থাকে। এটা আমার বাবার আমলেও দেখেছি। আর আমিও নিজে দেখলাম বার বার।’

তিনি বলেন, ‘ওই রেজাল্টটাই হলো আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। সব থেকে বড় কথা যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসায় একটা স্থিতিশীলতা এসেছে। আর এটিকে অস্থিতিশীল করতে তো অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে এই বিএনপি একবার হেফাজত নামাল, জঙ্গি সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে নিয়ে তারা মিছিল করছে। আর বিএনপি আমলে মন্ত্রীরা তাদের মদদ দিয়েছে। কাজেই সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, একটা শান্তিপূর্ণ দেশে নিয়ে আসা, অর্থনৈতিক উন্নতি করা- এটা তো তাদের ভালো লাগার কথা নয়।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটা সেভাবেই এসেছে। কম্প্রোমাইজ তো করিনি, আমাকে তো লোভ দেখানো হয়েছে অনেক। দেশে থাকি, বিদেশে থাকি সব জায়গায় এই দেবে, সেই দেবে। আমি বলছিলাম, ওসবে আমার কোনো দরকার নেই। আমি ফ্লোরেও থাকতে পারি, আমি এক বেলা খেয়ে থাকতে পারি। ওগুলো আমার দরকার নেই, আমি ইলেকশন চাই। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আর আমার পাওয়ার চাই। আমি দেশের উন্নতি করতে চাই; সাফ কথা আমার। পাওয়ার চাই, অ্যাবসুলেট পাওয়ার নিয়ে আমি দেশের উন্নতি করব, এটাই আমার লক্ষ্য।’

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনকে তারা ভোটারবিহীন ভোটারবিহীন বলে। অথচ তারা ভোট চুরির মধ্য দিয়ে এসেছে। আর তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। বিএনপির জন্ম কি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে? তা তো না! মিলিটারি ডিক্টেটর প্রথমে ক্ষমতা দখল করেছে। এর পর যে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল সৃষ্টি করেছে সেটাই হলো বিএনপি। আমি মনে করি এই কথাটাই জনগণকে বার বার বলা উচিত। বিএনপি কি জন্য দল না? ওরা তো মাটি ও মানুষ থেকে গড়ে ওঠা দল না, যেটা আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ভিত্তিটাই হচ্ছে এদেশের মাটি-মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই ওদের তো পায়ের তলায় মাটি নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা কিভাবে তুলনা করে? বিএনপি’র ক্ষেত্রে জন্মই হচ্ছে আজন্ম পাপ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করবে কেন? হ্যাঁ কিছু জাতীয় আন্তর্জাতিক বাহবা পায়, প্রেস পায়- এটাই তাদের শক্তি। জনগণ শক্তি না। আমাদের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। আমরা জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ পদ্মা সেতু হলো। আন্তর্জাতিকভাবে এত বাধা। সেই বাধা অতিক্রম করে আমরা নিজেদের পয়সায় পদ্মা সেতু করেছি। কোথায় লাভজনক হবে, কোথায় লাভজনক হবে না। কিতাব পড়া দু’জন বা বাইরের থেকে একজন এসে জানবে না। তারা আমাদের থেকে অনেক জ্ঞানী। অনেক শিক্ষিত। তারা হয়তো অর্থনীতিবিদ। আমরা তো ওতো পড়াশোনা করি নাই। আমি তো বাংলার ছাত্রী। কিন্তু আমি আমার দেশটাকে চিনি। দেশের মানুষকে চিনি, মাটিকে চিনি। দেশের ভালো-মন্দ কী সেটা বুঝি। কারণ দেশের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ আছে, কর্তব্যবোধ আছে। সেই বোধ থেকে মানুষের কল্যাণ কিসে, সেটা অন্তত বুঝি।’

এদিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলের পক্ষ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের শীর্ষ নেতারা। পরে একে একে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে শুভেচ্ছা জানান ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ এবং গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।,

from Sarabangla https://ift.tt/Z9eOIUg

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন