লাখের নিচে নামল মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ - Purbakantho

শিরোনামঃ

বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২

লাখের নিচে নামল মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ

ঢাকা: সমঝোতা চুক্তির সাত মাস পর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটিতে কর্মী পাঠাতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবার খরচ নির্ধারণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া যেতে একেকজন কর্মীর বাংলাদেশ অংশে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। বুধবার (৬ জুলাই) এই খরচের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।,

এদিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার যে অনলাইন পদ্ধতি রয়েছে ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এর আইটি সহযোগিতা দিতে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় অবস্থান করে সংশ্লিষ্টদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন।,

এর আগে গত ১২ জুন থেকে মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। জেলা কর্মসংস্থান অফিস বা অনলাইনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন শুরু করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিএমইটি।,

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের বিএমইটির ডাটাবেজ নিবন্ধন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন অনুযায়ী বিএমইটি ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীর তালিকা থেকে বৈদেশিক কর্ম সংস্থানের জন্য স্বংক্রিয়ভাবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের বিএমইটি ডাটাবেজে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।,

নিয়ম অনুযায়ী বিএমইটির আওতাধীন সকল জেলা কর্মসংস্থান অফিস ও জনশক্তি অফিস বা নির্ধারিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন করা যাবে। প্রতিটি সফল নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি ২০০ টাকা অফেরতযোগ্য পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমেও ১০০ টাকা ব্যবহার করে নিবন্ধিত হতে পারবেন। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীরা নিবন্ধনের উপযোগী বলে বিবেচিত হবে। নিবন্ধনের কার্যকারিতা থাকবে দুই বছর পর্যন্ত। যারা আগে থেকে নিবন্ধন করেছেন তাদের নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম জানান, বিএমইটির ডাটাবেজ থেকেই মালয়েশিয়া কর্মী পাঠানো হবে।,

তিনি বলেন, এখন যে নিবন্ধন চলছে, সেখান থেকে শুধু মালয়েশিয়াই না, চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো দেশে কর্মী পাঠানো যাবে।,

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সহযোগিতার জন্য দেশটির একটি কারিগরি টিম ঢাকায় অবস্থান করছে। বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে তাদের যে অনলাইন পদ্ধতি রয়েছে ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এ বাংলাদেশকে যুক্ত করতে মালয়েশিয়ার আইটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় এসেছে। এরইমধ্যে মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দলটি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো- বিএমইটিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্রিফ করেন। এরপর ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম'-এফডব্লিউসিএমএস কানেকশন দেন। এর আগে সোমবার (৪ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গেও একই বিষয়ে বৈঠক করেন।,

বাংলাদেশ যে কয়টি দেশে জনশক্তি রফতানি করে তার মধ্যে অন্যতম শ্রমবাজার ছিল মালয়েশিয়া। এক সময় দেশটিতে বিভিন্ন কাজ নিয়ে বছরে লাখ লাখ কর্মী যেতো। দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে দুইবার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে। সবশেষ ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর ওই সময় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম আর দুর্ণীতি করে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ এনেছিলো মালয়েশিয়া।, 

এরপর নানা দেন দরবারের পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শ্রমবাজারটি পূনরায় চালু করতে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী গত জানুয়ারি থেকে কর্মী পাঠানোর কথা ছিলো। এরপর শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত। যা সমাধান করতে সাত মাস চলে যায়। সবশেষ গত ২ জুন দুইদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এরপর থেকে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।,

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন কর্মী মালয়েশিয়া কাজ নিয়ে যায়। ২০১৯ সালে যায় ৫৪৫ জন, ২০২০ সালে ১২৫ জন আর ২০২২ সালের গত ৭ মাসে যায় ১৪ জন বাংলাদেশী। সব মিলিয়ে দেশটিতে দশ লাখের বেশী বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে।,

from Sarabangla https://ift.tt/T9Gf2vK

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন