এখনো তিন জেলায় তাপপ্রবাহ, শিগগিরই দেখা মিলবে বৃষ্টির - Purbakantho

শিরোনামঃ

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

এখনো তিন জেলায় তাপপ্রবাহ, শিগগিরই দেখা মিলবে বৃষ্টির

ঝর্ণা রায়, ঢাকা : আষাঢ়জুড়ে যে খরতাপে পুড়ছিল দেশ, তার অবসান হচ্ছে শিগগিরই। তাপমাত্রা কমে গিয়ে দুই চারদিনের মধ্যেই বৃষ্টির দেখা মিলবে। তবে ভারী বর্ষণ কিংবা বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে না। আপাতত সাগরে নেই লঘুচাপের সম্ভাবনাও। তবে বিশ্বজুড়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তার আঁচ যে বাংলাদেশে মোটেই লাগবেনা তা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, বিশ্বে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তার প্রভাব কম বেশি বাংলাদেশেও পড়তে পারে।

বাংলাদেশের বর্ষপুঞ্জিতে ছয়টি ঋতু রয়েছে। এই ছয় ঋতুর দ্বিতীয় অর্থাৎ আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসকে বলা হয় বর্ষাকাল। এই ঋতুতে ঝুম বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক দৃশ্য। তবে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। বলতে গেলে আষাঢ়জুড়েই খরতাপে পুড়েছে দেশ। এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহেও যেন মানুষ অপেক্ষা করেছে চাতক পাখির মতো। দেশের বিভিন্ন এলাকায় রীতিমতো চলেছে দাবদাহ। তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। টানা এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল বুধবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টির দেখা পাওয়া গেল। আবহাওয়া অধিদফতর গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। তবে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার। এছাড়া প্রায় সারাদেশেই কম বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।


তবে এর বিপরীত দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই নিয়ে টানা চারদিন ধরে রাজশাহীতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই পরিস্থিতির অবসান শিগগিরই হচ্ছে। তাপের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।


প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদফতরেরর উপপরিচালক মো. ছানাউল হক মণ্ডল বলেন, বর্ষা মৌসুমের কয়েকটি ধরন রয়েছে। বর্ষা কখনো সক্রিয় আবার কখনো দুর্বল অবস্থায় থাকে। গত বেশ কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে বর্ষা একদম দুর্বল অবস্থায় ছিল, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একেবারে কমে আসছিল। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসার কারণে তাপমাত্রা বেড়েছিল এবং রাজশাহী, রংপুর এবং ঢাকা বিভাগের কিছু অঞ্চল খুলনা, যশোর কুষ্টিয়া এই বেল্ট দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গত তিন চার দিন থেকে গ্রাজুয়ালি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, যেসকল জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে ওই সকল স্থানে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসছে। সামনের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। তবে এমন নয় যে সারাদেশে মুষলধারে বৃষ্টি হবে। গত কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে তাপপ্রবাহের যে পূর্বাভাস ছিল, সেটি আর থাকবে না। তবে গরম অনুভূত হতে থাকবে।


আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসও রয়েছে।


এদিকে, আবারও তিন জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাত্রিকালীন এক প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, ও নওগাঁ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে তা ধীরে ধীরে কমে গিয়ে বৃষ্টিপাত বাড়বে। আগামী তিন থেকে চারদিন বৃষ্টিপাত হবে। পাঁচদিনের মাথায় গিয়ে বৃষ্টি কমার কথা বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।


এদিকে তাপমাত্রা বেড়ে পুড়ছে প্রায় গোটা বিশ্ব। যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে এরই মধ্যে রেল এলার্ট জারি করেছে। স্পেন, পুর্তগাল, ফ্রান্সও তাপদাহে জ্বলছে। কোনো কোনো দেশে তাপমাত্রার পারদ ৪৭ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছে। বৈশ্বিক এই আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদ মো. ছানাউল হক মণ্ডল।


তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চূড়ান্ত পর্যায়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। কোথাও তাপমাত্রা বাড়ছে, কোথাও আগ্নেয়গিরি হচ্ছে আবার কোথাও বন্যা, কোথাও খরা। আবার আমাদের দেশে ভরা বর্ষা মৌসুম, তারপরেও বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে বলতে পারি যে বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের (পৃথিবীর তাপমাত্র বৃদ্ধি) বিষয়টা তার কিছুনা কিছু ইফেক্ট তো আমাদের দেশে পড়বেই।


আবহাওয়ার গতিবিধির এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষ। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমের প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে।


from  Sarabangla https://ift.tt/qHGxmTf

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন