ইদযাত্রার প্রতিদিন গড়ে ২৭ জনের প্রাণহানি - Purbakantho

শিরোনামঃ

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২

ইদযাত্রার প্রতিদিন গড়ে ২৭ জনের প্রাণহানি

এবারের ইদযাত্রায় ৩১৯টি সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৩৯৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ইদযাত্রার ১৫ দিন ৩ জুলাই থেকে ইদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ জুলাই পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ২৬.৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭৭৪ জন।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করে সংগঠনটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি জানায়, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪৪০ জন। আর সব মিলিয়ে আহত হয়েছেন ৭৯১ জন।,

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ইদযাত্রা শুরুর দিন ৩ জুলাই থেকে ইদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৮ জন নিহত এবং ৭৭৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১০টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তথ্য মিলেছে। বিগত ৭ বছরের তুলনা করলে এবারের ইদে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দুটোই সর্বোচ্চ।,

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল। এবারের ইদে ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫.৪২ শতাংশ, নিহতের ৩২.৯১ শতাংশ। তবে মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধ করায় ৯ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে।,

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সময়ে সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ১৫৭ জন চালক, ৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০৬ জন পথচারী, ৬২ জন নারী, ৫১ জন শিশু, ৩৬ জন শিক্ষার্থী, ৬ জন সাংবাদিক, ৪ জন চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ জন সদস্য, ৬ জন শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ জন নেতাকর্মী এবং ১ জন প্রকৌশলী।,

মোজাম্মেল হক বলেন, করোনা না থাকার কারণে এবারের ইদে বেশি মানুষের যাতায়াত হয়। রাজধানী থেকে ১ কোটি ২০ লাখ এবং ৪ কোটি মানুষ আন্তঃজেলায় যাতায়াত করেছে। এছাড়া এবারের ইদে সবচেয়ে বেশি ভাড়া নৈরাজ্য হয়েছে এবং ৪ ঘণ্টার যাত্রা ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। ইদযাত্রায় সড়কে যানজটের সুযোগ লুফেছে হোটেল ব্যবসায়ীরা। তারা নিম্নমানের খাবার বেশি দামে বিক্রি করেছে। পথে পথে যাত্রী হয়রানী ও ভাড়া নৈরাজ্যের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বাসের পাশাপাশি ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, মুরগিবাহী প্রিজন ভ্যানেও যাত্রী যাতায়াত করতে দেখা গেছে।, 

বরাবরের মতো ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারি, টিকিট পেতে বিড়ম্বনাসহ নানা ভোগান্তি রেল যাত্রীদের পিছু লেগেই ছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংকটে দেশের বিভিন্ন নৌপথে ভাড়া কমানো হলেও ঈদযাত্রায় টিকিট কালোবাজারি, ভাড়া নৈরাজ্য নৌপথের যাত্রীদের আগের মতোই ছিল।,

from Sarabangla https://ift.tt/Pnjk0Yf

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন