ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে ৫২ উপজেলা, ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী - Purbakantho

শিরোনামঃ

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে ৫২ উপজেলা, ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরও ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবার পাচ্ছে নতুন স্থায়ী ঠিকানা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঁচটি আশ্রয়ন প্রকল্পে যুক্ত হয়ে এই ঘরগুলো হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ৫২টি উপজেলা গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত হিসেবে ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার যে পাঁচটি আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত হবেন সেগুলো হলো— লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরকলাকোপা আশ্রয়ন প্রকল্প, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা আশ্রয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী আশ্রয়ন প্রকল্প, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহান পাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জঙ্গালিয়া আশ্রয়ন প্রকল্প।,


প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যে ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা হবে সেগুলো হলো— ঢাকার নবাবগঞ্জ; মাদারীপুরের মাদারীপুর সদর; শরীয়তপুরের ডামুড্যা; কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী; টাঙ্গাইলের গোপালপুর; মানিকগঞ্জের ঘিওর ও সাটুরিয়া; রাজবাড়ীর কালুখালী; ফরিদপুরের নগরকান্দা; নেত্রকোনার মদন; ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর ও ফুলবাড়িয়া; জামালপুরের বক্সীগঞ্জ; চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া; লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জ; ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম।,


এই তালিকায় আরও রয়েছে— গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ; পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া ও বোদা; দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ; ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী; নীলফামারীর ডিমলা; নওগাঁর রাণীনগর; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট ও বাঘা; বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও দুপচাঁচিয়া; নাটোরের বাগাতিপাড়া; পাবনার ঈশ্বরদী; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ; ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু; সাতক্ষীরার তালা; মাগুরার মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা; ঝালকাঠির কাঠালিয়া; এবং পটুয়াখালী দশমিনা।,


বুধবার সরজমিনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরকলাকোপা আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে হঠাৎ  বৃষ্টিতে সেই কাজে কিছুটা বিঘ্ন হয়। তারপরও প্রকল্প এলাকাজুড়ে চলছে সাজ সাজ প্রস্তুতি। নতুন ঠিকানায় নতুন সংসার সাজাতে যাওয়া মানুষগুলোকে ঘরের কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দিতে সব প্রস্তুতিই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই সারিতে দুই পাশে ঘরগুলো করা হয়েছে। দুই সারির মাঝখানে হাঁটাচলার রাস্তাটিও পাকা করা হয়েছে।,


আশ্রয়ন কেন্দ্র সংলগ্ন সমাবেশস্থলে সামিয়ানা টানিয়ে ভেতরে সাজসজ্জার কাজ চলছে। এই ইউনিয়নেই ১৯৭২ সালে চর পোড়াগাছা গুচ্ছগ্রামে ৫৯০ একর জমি বরাদ্দের মধ্য দিয়ে প্রথম আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের পরিক্রমায় তারই কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পিতার স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর উপহার দিচ্ছেন। প্রকল্পটিতে ১৪২টি বাড়ি পাচ্ছেন ভূমিহীন ও গৃহহীনরা।,


লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানালেন, জেলার তিন হাজার ২২৮টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ৬৬টি পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরো জেলায় আরও ৪৩৬টি পরিবার বাড়ি পাবে। এর মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।,


জেলা প্রশাসক বলেন, এ এলাকায় জেলে, বেদে, ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষেরা অত্যন্ত খুশি। তাদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন বাড়ি পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।,


বুধবার চরকলাকোপা আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এম এম ইমরুল কায়েস রানা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার কন্যা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। একটি ঘর যে পরিবারের সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে এনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে, তা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। এটি শেখ হাসিনা মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।,


মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২ শতক জমিসহ সেমিপাকা একক ঘর দেওয়া হচ্ছে ভূমি ও গৃহহীন একেকটি পরিবারকে। প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি জমির মালিকানাসহ ৬০ হাজার ১১১টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে একই বছরের ২০ জুন জমির মালিকানাসহ হস্তান্তর করা হয় ৫৩ হাজার ৩০০টি ঘর। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত মোট একক ঘরের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি।,


চলমান তৃতীয় পর্যায়ে (২০২১-২২) মোট বরাদ্দ করা ঘরের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০০টি। এর মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল হস্তান্তর করা হয় ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর। আর আজ বৃহস্পতিবার হস্তান্তর হচ্ছে ২৮ হাজার ২২৯টি ঘর। এর বাইরে নির্মাণাধীন রয়েছে ৮ হাজার ৬৬৭টি ঘর।,


সব মিলিয়ে তিন পর্যায়ে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দ  করা মোট একক ঘরের সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি। এর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।,


আশ্রয়ন প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় পর্যায়ে চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ নকশায় তৈরি করা হয়েছে ১ হাজার ২৪২টি ঘর। আর সার্বিকভাবে গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি করে দিতে সারাদেশে খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৫১২ একর। এর আনুমানিক স্থানীয় বাজারমূল্য ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর বাইরেও সারাদেশে ১৯১ দশমিক ৭৯ একর জমি কিনেছে সরকার। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ১৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কেনা জমিতে পুনর্বাসিত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬২টি।,


from Sarabangla https://ift.tt/pEe3qch

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন