অগ্রগামী অস্ট্রেলিয়া ন্যায় সঙ্গত - Purbakantho

শিরোনামঃ

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

অগ্রগামী অস্ট্রেলিয়া ন্যায় সঙ্গত

একটি দেশ সম্পর্কে জানতে গেলে আমার প্রথমই জানতে ইচ্ছে করে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টির ব্যতিক্রম হলো না। একদিন মধ্যরাতে হঠাৎই পড়তে শুরু করলাম অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে। প্রথমেই যে বিষয়টি জানলাম তা হলো অস্ট্রেলিয়ার ‘আমার সোনার বাংলা’ হলো ‘Advance Australia Fair’. মানে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত হলো ‘Advance Australia Fair’ নামের একটি গান। 

গানটি কয়েকবার ভিডিও শেয়ারিং ওয়েসাইট ইউটিউব এ শুনলাম। বেশ সুমধুর। খুব ভাল লাগলো। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে আলোচনার আগে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে কয়েকটা কথা বলা প্রাসঙ্গিক মনে করছি। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটির রচিয়েতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি এই গানটি রচনা করেছিলেন ১৯০৫ সালে।


 ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। এই গানটি তিনি রচনা করেছিলেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে থাকার সময়। তিনি সেখানকার বাউল শিল্পী গগণ হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই সুরের ছায়া অনুসরণে এই গানটি রচনা করেছিলেন। যে গানের প্রথম ১০ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। এই গানটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব পছন্দ করতেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের অসহযোগ আন্দোলনের সময় এ গানটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজানো হয়েছে।


আর মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ১৭ এপ্রিল যখন মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে তখন এই গানটির মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়েছিল। এছাড়া যুদ্ধ দিনে এই গানটি ছিল বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস। আমি মনে করি যথাযথ কারণেই এই গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের একটি অংশ আমি বলবো বুদ্ধিহীন, মৌলবাদী, নিরেট ও কূটচিন্তার অধিকারী মানুষ বিষয়টিকে মানতে পারেন না। একজন হিন্দু, একজন ঠাকুর, একজন ভারতীয়র গান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত! এটা তারা সহ্যই করতে পারেন না। 


মনে প্রাণে প্রত্যাখান করেন। আর সেজন্যেই বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসায় পাঠদান শুরুর আগে এই গান গাওয়া হয় না। তারা আবার অনেক সময় ঔদ্ধত্য দেখিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামী ভাবধারার জাতীয় সঙ্গীত লেখার আহ্বান জানান।


জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন অস্ট্রেলিয়ার নারী ফুটবল দলের সদস্যরা‘আমার সোনার বাংলা’র পরিবর্তে আর কোনো গান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হতে পারে বা পারতো? আমাকে যদি এমন প্রশ্ন করা হয় তাহলে আমি আবার রবি ঠাকুরের কাছেই ফিরে যাব। তার আরেকটি গান আমার ভীষণ প্রিয়। আমি একান্ত ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই গানটিও আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হতে পারতো। এই গনটির শিরোনাম হলো ‘ও আমার দেশের মাটি’। আহা কি অসাধারণ মায়াবী সুরের একটি দেশাত্মবোধক গান। এই গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন ১৯০৫ সালে, এটিও সেই বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। যাই হোক পাঠকদের এই গানটি শোনার আহ্বান থাকলো। আমি হলফ করে বলতে পারি, এই গানের কথা ও সুরে পাঠকের হৃদয় আচ্ছন্ন হতে বাধ্য। ,


জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী নেতা, একজন গায়িকা ও রাগবী দলের সদস্যরা[ আবার ফিরে আসা যাক অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত ‘Advance Australia Fair’ গানটির লেখক কোনো অস্ট্রেলিয়ান নয়। এই গানটি লিখেছেন স্কটিশ গীতিকার পিটার ডডস্ ম্যাককরমিক (চবঃবৎ উড়ফফং গপঈড়ৎসরপশ)। যার লেখক নাম ছিল এ্যামিকাস অর্থাৎ বন্ধু। অস্ট্রেলিয়ার দেশাত্ববোধক গান হিসেবে এই গানটি প্রথম গাওয়া হয় ১৮৭৮ সালে। ১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত ছিল যুক্তরাজ্যের জাতীয় সঙ্গীত ‘God Save the Queen’ (সৃষ্টি কর্তা রাণীকে রক্ষা করো, গীতিকার: জন বুল)। ১৯৭৪ সালের এই গানটি বদলে অস্ট্রেলিয়ার নতুন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে চালু হয় ‘Advance Australia Fair’ গানটি। 


যদিও কিছু দিন পর ১৯৭৬ সালে আবার ‘God Save the Queen’ জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে চালু হয়। এরপর দেশটির একটি সাংবিধানিক কমিটি ১৯৭৭ সালে ‘Advance Australia Fair’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্ধারণ করে। আর ‘God Save the Queen’ গানটিকে নির্ধারণ করা হয় রাজকীয় সঙ্গীত হিসেবে। যা সাধারণত রাণী বা রাজ পরিবারের কারও উপস্থিতিতে বাজানো হয়ে থাকে। ,


অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত ‘Advance Australia Fair’ — Australians all let us rejoice, For we are one and free; We’ve golden soil and wealth for toil; Our home is girt by sea; Our land abounds in nature’s gifts Of beauty rich and rare; In history’s page, let every stage Advance Australia Fair. In joyful strains then let us sing, Advance Australia Fair. Beneath our radiant Southern Cross We’ll toil with hearts and hands; To make this Commonwealth of ours Renowned of all the lands; For those who’ve come across the seas We’ve boundless plains to share; With courage let us all combine To Advance Australia Fair. In joyful strains then let us sing, Advance Australia Fair. এর বাংলা অনুবাদ— (অস্ট্রেলিয়ানরা আসুন আমরা সবাই আনন্দ করি কারণ আমরা সবাই এক এবং মুক্ত। আমাদের পরিশ্রমের সম্পদ আছে, আছে সোনার মাটি আমাদের বাসস্থান সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত। আমাদের ভূমি প্রকৃতি উপহারে সমৃদ্ধ আমাদের সৌন্দর্য সমৃদ্ধ ও দুষ্প্রাপ্য; ইতিহাসের পাতায় সব স্তরেই অগ্রগামী অস্ট্রেলিয়া ন্যায় সঙ্গত। আনন্দ সঙ্গীতের সাথে আমাদের গাইতে দাও অগ্রগামী অস্ট্রেলিয়া ন্যায় সঙ্গত । আমাদের উজ্জ্বল সাউদার্ন ক্রসের নীচে হাত ও হৃদয় এক করে থাকবো আমরা আমাদের কমনওলেথকে আমাদের করতে দেশের সকল অংশকে খ্যাতিমান করতে তাদের জন্য যারা সমুদ্র অতিক্রম করে এখানে এসেছেন আমাদের সীমাহীন ভূমি আছে ভাগাভাগি করার জন্য সাহসের সাথে আমরা একত্রিত হই অস্ট্রেলিয়াকে অগ্রগামী ও ন্যায় সঙ্গত করতে। আনন্দ সঙ্গীতের সাথে আমাদের গাইতে দাও অগ্রগামী অস্ট্রেলিয়া ন্যায় সঙ্গত।) [caption id="attachment_698194" align="aligncenter" width="800"] অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত রচিয়েতা পিটার ডডস্ ম্যাককরমিক[/caption] যে কোনো দেশের জন্যেই জাতীয় সঙ্গীত খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। আর তাই এর কোনো ধরনের পরিবর্তন খুবই সতর্কতার সাথে করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ানরাও তাই করেছে। অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে সবশেষ বিতর্ক শুরু হয় ২০১০ সালের পর। এই গানটির কয়েকটি লাইন নিয়ে আদিবাসীরা নতুন করে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ফুটবল মাঠে কোনো কোনো খেলোয়াড় এ গান গাওয়া থেকে বিরত থাকতে শুরু করেন। ,


রাগবী মাঠে গানটি আদিবাসী ভাষায় গাইতে শুরু করে কোনো কোনো দল। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত সংশোধনের পদক্ষেপ নেন। লক্ষ্য ছিল গানটিকে আরও আদিবাসী বান্ধব করা। এমন পরিবর্তন আনা যাতে সবাই গানটিকে সাদরে গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাতীয় সঙ্গীতে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। পিটার ডডস্ ম্যাককরমিকের মূল গানের মূল দ্বিতীয় লাইন ছিল ‘For we are young and free’। যা সর্ব সম্মতিক্রমে পরিবর্তন করে করা হয় ‘For we are young and free’. যার অর্থ ‘কারণ আমরা সবাই এক এবং মুক্ত।, 



লেখক: সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্রিজবেনে অবস্থানরত The post appeared first on Sarabangla |http://dlvr.it/SWC6TV

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পৃষ্ঠাসমূহ