চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যয় বাড়ছে হাজার কোটি টাকা - Purbakantho

শিরোনামঃ

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যয় বাড়ছে হাজার কোটি টাকা

চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে হাজার কোটি টাকা। এ জন্য চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। 

এটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৪৮ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি মোট ২ হাজার ৩১২ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা (৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ) এবং বাস্তব অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। ,


পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছিলেন। ফলে তাদের সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। শহর কেন্দ্রে ভ্রমণ দূরত্ব হ্রাসের পাশাপাশি যানজট কমবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে ও নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান টানেলে যাতায়াত সহজ হবে।, 


তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।’ পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।’ প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে— বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর। 


দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যিক সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মহানগরীতে দিন দিন যানজট তীব্রতর হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে আরও একটি ফ্লাইওভার যুক্ত করে শহরে প্রাণকেন্দ্র থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এ জন্য ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। 


২০১৭ সালের ১১ জুলাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভৌত কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই দুইবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল অনুমোদিত হয়। বর্তমানে অনুমোদিত প্রকল্পের ফ্লাইওভারের অ্যালাইনমেন্টে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ভূমি সমতলে রাস্তার প্রশস্ততা বজায় রাখতে পিয়ারের পরিসর কমিয়ে ফ্লাইওভারের নকশা সংশোধন করা হয়েছে।, 


কংক্রিটের গ্রেড উন্নয়ন ও অতিরিক্ত নির্মাণ কাজের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি, কিছু অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি প্রথম সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী চার লেন (১৬.৫ মিটার প্রস্থ) বিশিষ্ট মূল ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার এবং ৬ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট র‌্যাম্প ৫ কিলোমিটার। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, কনসালটেন্সি (সুপারভিশন ও ডিজাইন) অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কনসালটেন্সি অঙ্গে ৩ হাজার ৮৬৭ জনমাস ধরা হয়েছিল। 


বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করায় এবং কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বেড়েছে। এক্ষেত্রে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড টেস্টিং সার্ভিস-মিলিটারি ইনিসটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ম্যান মানথ ৬৮৪ জন মাস বৃদ্ধি করে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। কন্সালটেন্সি (ভেটিং) এ ব্যয় বৃদ্ধি: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সী-বিচ হতে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশের নকশা (অ্যালাইনমেন্ট) চূড়ান্ত করা এবং ডিজাইন ক্যাটস-মিস্ট ভেটিংসহ কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধি: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধিত অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তুত করায় ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের লালখান বাজার হতে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে কিছু কিছু জায়গায় ফ্লাইওভারের এ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন হওয়ায় সংশোধিত ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অনুমোদিত ১৩৮ কাঠার পরিবর্তে ৫৯৬ দশমিক ১৮ কাঠা প্রস্তাব করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিগ্রহণ মূল্য ১২১ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। ,


স্থাপনার ক্ষতিপূরণে ব্যয় বৃদ্ধি: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ১৩ হাজার ৩৯ বর্গমিটার স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর হতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটি সংশোধনীর আরও যেসব কারণ দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে।, 


এছাড়া অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন, স্প্যানের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, পাইল ক্যাপের সাইজ-পিয়ার এবংকংক্রিট গ্রেডের পরিবর্তন। আরও আছে, রেলল্ইানের ওপর পোর্টাল ফ্রেমের মাধ্যমে পিয়ার নির্মাণ, ফাউন্ডেশনের ডিজাইন পরিবর্তন, পিসি গার্ডারের পরিবর্তে আরসিসি বক্স গার্ডার যুক্ত করা প্রভৃতি। প্রকল্পের আওতায় ডিসেক স্লাবের থিস্কনেন্স বৃদ্ধি করা, র‌্যাম্প গুলোর পিসি গার্ডারের পরিবর্তে আরসিসি বক্স গার্ডার অন্তর্ভুক্তকরণ, রি-কন্সট্রাকশন অব রোড পেভমেন্ট অংশে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।, 


রোড মার্কিং, রোড মেইন্টেনেন্স অংশে ব্যয় কমানো, বৈদ্যুতিক লাইনসহ পোল স্থানান্তর ওভারহেড লাইন ও আনুষঙ্গিক অংশে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রকল্পে এলইডি লাইট স্থাপন অংশে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া সি.সি টিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্তকরণ, টোল প্লাজা অন্তর্ভুক্তকরণ, প্লাবিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্তকরণ, রাস্তার উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণ, ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধন, মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক নির্মাণ অন্তর্ভুক্তকরণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মনিটরিং ভবন এবং ১৩ টি কন্ট্রোল ইলেট্রিক্যাল রুম নির্মাণ, বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের ধরন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।, 


 The post  appeared first on Sarabangla http://dlvr.it/SW1kwn

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন