উদযাপন করা হবে সংসদের ৫০ বছর, অনুষ্ঠান বছরব্যাপী - Purbakantho

শিরোনামঃ

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

উদযাপন করা হবে সংসদের ৫০ বছর, অনুষ্ঠান বছরব্যাপী

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০ বছরপূর্তি পালন করা হবে। সিপিএভুক্ত পার্লামেন্টের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।,

জমকালো অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিরাও অংশ নেবেন। আগামী বছরের মে মাসে শুরু হয়ে এই অনুষ্ঠান চলবে বছরব্যাপি। হাউস অব কমন্সের স্পিকার লিন্ডসে হোয়েলেও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।,


রোববার (২১ আগস্ট) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার সংসদের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী বছরের এপ্রিল মাসে সংসদের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু সেই মাসে রমজান মাস থাকবে। তাই পরবর্তী মাস থেকে আমরা ৫০ বছর উদযাপন শুরু করব। এটি বছরব্যাপি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’


বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনের কাজ ১৯৬১ সালে শুরু হয়। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি ৯ তলার ভবনের উদ্বোধন করা হয়। দৃষ্টিনন্দন ভবনের নকশা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কান।,


সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর লন্ডন সফরকালে সিপিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল স্টিফেন টুইগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। স্টিফেন টুইগ এসময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে সিপিএ’র সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ পার্লামেন্টের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে স্পিকার লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ভবনে হাউস অব কমন্সের স্পিকার লিন্ডসে হোয়েলেকে আমন্ত্রণ জানান। স্পিকার লিন্ডসে হোয়েলে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।,


স্বাধীন বাংলাদেশের গণ-পরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকার তেজগাঁওয়ের সংসদ ভবনে শুরু হয়। গণ-পরিষদের প্রথম স্পিকার নির্বাচিত হন শাহ আব্দুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার মুহম্মদুল্লাহ। স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদ মৃত্যুবরণ করায় ডেপুটি স্পিকার জনাব মুহম্মদুল্লাহ পরবর্তীতে স্পিকার এবং মো. বয়তুল্লাহ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।,


দেশের ১১টি সংসদের মধ্যে ৫ বার ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ৪ বার। বর্তমানের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল ২ বার।,


জাতীয় সংসদের ইতিহাসে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জাতীয় সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩১৫টি। এই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় সংসদ ভবনে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল।,


১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ১৫টি থেকে ৩০টিতে উন্নীত করা হয়। এতে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩০। ১৯৭৯ সালে ২ এপ্রিল দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।,


১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংরক্ষিত ৩০টি মহিলা আসনসহ সংসদের সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ৩৩০ । প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১০ জুলাই।,


চতুর্থ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ । ২৫ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এ সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০০। সংরক্ষিত ৩০টি মহিলা আসন সংক্রান্ত আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কোন সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিল না।,


১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এ সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৩০ জন। কারণ মহিলাদের জন্য ৩০টি সংরক্ষিত আসন সংক্রান্ত আইন হওয়ায় পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পুনরায় ৩০ জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।,


ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১৯ মার্চ । ৩০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৩০টি।,


সপ্তম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ জুন। এর প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১৪ জুলাই।,


অষ্টম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এবং প্রথম অধিবেশন শুরু হয় একই বছরের ২৮ অক্টোবর। এ সংসদের শুরুতে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি। কারণ সংরক্ষিত ৩০টি মহিলা আসন আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অষ্টম সংসদের শুরুতে কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিল না। পরে সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন, ২০০৪ পাসের মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৩০টি থেকে ৪৫টিতে উন্নীত করা হয়। এতে সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪৫ জন।,


এই আইন প্রবর্তনকালে অষ্টম সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এবং অষ্টম সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে শুরু করে ১০ বছরকাল অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত ৪৫টি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।,


নবম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। ৩০ জুন ২০১১ তারিখে নবম সংসদে বিগত (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ সালে হয়। এই আইন দ্বারা সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫টি থেকে ৫০টিতে উন্নীত করা হয়। ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ নবম সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৫০টি।,


দশম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। ৫০টি সংরক্ষিত আসনসহ দশম জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা হচ্ছে ৩৫০টি।,


সংবিধানের (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ দ্বারা দশম সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে শুরু করে পঁচিশ বছরকাল অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভেঙ্গে না যাওয়া পর্যন্ত ৫০টি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।,


একাদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। আর অধিবেশন শুরু হয় ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি।,



from Sarabangla https://ift.tt/Qr0yRM6

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন