ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৭ বাফার গুদাম নির্মাণ - Purbakantho

শিরোনামঃ

রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৭ বাফার গুদাম নির্মাণ

ঢাকা: সার সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ হচ্ছে ১৩টি বাফার গুদাম। এর মধ্যে ৬টির কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে সার সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। বাকি ৭টির কাজও শেষ পর্যায়ে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব গুদামের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. নূরুল আলম বলেন, সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ দ্বিতীয় সংশোধিত শীর্ষক প্রকল্পটির সংশোধিত প্রাক্কালিত ব্যয় ৫৪৫ কোটি ৩৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের সারের মজুত সুনিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, আপতকালীন সার মজুতকরণ এবং দ্রুততম সময়ে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার পৌঁছানোর জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়।,


সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে চলতি জুন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৩৭৬ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৬৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া  প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।,


তিনি বলেন, প্রকল্পের ১৩টি গোডাউনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬টি গোডাউনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই গোডাউনগুলোতে বর্তমানে সার সংরক্ষণ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭টি গোডাউনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। গুদামগুলোর অগ্রগতির চিত্র হলো—গত ২৪ জুলাই পর্যন্ত নেত্রকোনা সাইট ৯২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সাইট ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ, রাজবাড়ী সাইট ৮০ দশমিক ৬০ শতাংশ, পাবনা সাইট ৭২ দশমিক ৮০ শতাংশ, গোপালগঞ্জ সাইট ৩৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ, বরিশাল সাইট ৩৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জ সাইট ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।  সবগুলো গুদাম নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।,


এ পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী ও পাবনা সাইট চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে এবং গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও সুনামগঞ্জ সাইট চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, শিল্পমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন গোপালগঞ্জ বাফার গোডাউনের নির্মাণ কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পরিচালক (পরিকল্পনা), বিসিআইসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণকে প্রতি সপ্তাহে একবার নির্মাণাধীন সাইটগুলো মনিটরিং করে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া মন্ত্রণালয় গঠিত মনিটরিং টিমের রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয় সভায়।,


প্রকল্প পরিচালক সভায় আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ১৩টি গোডাউন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু গোডাউনগুলোতে ঠিকাদারের কাজ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত সাইট পরিদর্শন করে চেক ও মনিটরিং করা, মালামালের গুণাগুণ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যাচাই করা এবং সঠিক মালামালের ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঠিকাদারের দাখিল করা বিলের সঠিকতা যাচাই করা, বাস্তব অবস্থার জন্য প্রস্তাবিত ডিজাইন ভেটিং করা এবং সাইট পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কন্সসুলেশন (বিআরটিসি), বুয়েটকে প্রকল্পের কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োজিত রাখা হয়। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য চুক্তি হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি হওয়ায়  বর্ধিত সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ সেবা নিতে হলে এই বর্ধিত সময়ের জন্য নতুন করে কার্যাদেশ দেওয়া প্রয়োজন।,


প্রকল্প পরিচালক জানান, করোনা মহামারি বন্যা, অতি বৃষ্টি, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বাস্তবতার কারণে প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই সময় পূর্ণ মাত্রায় বিশেষজ্ঞ সেবা নেওয়া সম্ভব হয়নি তাই বিআরটিসি, বুয়েটকে চিঠি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বর্ধিত সময়ের জন্য আগের ধারাবাহিকতায় বিশেষজ্ঞ সেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সে জন্য বিআরটিসি, বুয়েট জানায়, তাদেরও সঙ্গেও প্রকল্পের চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞ সেবা দেওয়া প্রধানত, টপ সুপারভিশনের আওতাভুক্ত যা কোন নির্দিষ্ট পরিমাণের কাজ নয় এবং এ সেবা দেওয়া পুরোপুরি নির্ভর করে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের উপর। সেক্ষেত্রে আগের চুক্তি মূল্যে দীর্ঘকাল সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বুয়েট কনসালটেন্ট চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আগের মূল্যে বিশেষজ্ঞ সেবা দিতে সম্মত রয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন সময়ের পরবর্তী সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ সেবা নিতে হলে আলোচনা সাপেক্ষে নতুনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে চুক্তি করতে হবে।,


প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের ১৩টি সাইটের জমির অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ সাইটের মধ্যে ১১টি সাইটের অধিগ্রহণ করা জমির নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। সুনামগঞ্জ সাইটের জমির মূল্যে ও ক্ষতিপূরণের অর্থ জমির মালিকগণ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসন থেকে এখনো গেজেট করা সম্ভব হয়নি। কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও গাইবান্ধা এই তিনটি সাইটের জমির দখলনামা ও গেজেট ঠিক থাকলেও নামজারিতে দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণে কিছুটা অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। দখলনামা ও গেজেট অনুসারে নামজারি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ ও গাইবান্ধা সাইটের জমির নামজারি সংশোধনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পাওয়া গেলে আপিল রিভিউ দায়েরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।,




from Sarabangla https://ift.tt/SArnNx6

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন