একজন রেল কর্মকর্তার ‘বঙ্গবন্ধু’ ভাবনা - Purbakantho

শিরোনামঃ

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

একজন রেল কর্মকর্তার ‘বঙ্গবন্ধু’ ভাবনা

ঢাকা: “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঋণ তো কারো পক্ষে শোধ করা সম্ভব না। বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালির অস্তিত্ব, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। কিন্তু তার প্রতি যে অপরিসীম শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং ভালবাসা রয়েছে, সেটিই আমি প্রকাশ করতে চেয়েছি।

সেই শ্রদ্ধা আর ভালবাসার জায়গা থেকে কিছু করতে চেষ্টা করেছি। নিজের ভেতরে যে আবেগ লালন করি, সেই আবেগ আর ভালোবাসা থেকে ‘মহানায়ক’ গানটি লিখেছি”—এই কথাগুলো একজন রেলওয়ে কর্মকর্তার। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আর এস)  মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী।,


মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রেখেছেন নিজের গীতিকবিতার মধ্য দিয়ে। তিনি লিখেছেন—‘তুমি ইতিহাস জুড়ে সর্বশ্রেষ্ঠ, মহানায়ক এই বাংলার, তুমি শোষকের জম শোষিতের দম,  স্রষ্টা স্বাধীনতার !,


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও মুজিবর্ষ উপলক্ষে ‘মহানায়ক’ শিরোনামে এই কালজয়ী গানটির সুর করেছেন রাজেশ ঘোষ। ওয়ারফেজের সাবেক ভোকালিস্ট মিজান রহমানের কণ্ঠে গাওয়া মেলোডি ও রক ধাঁচের গানটি গত বছর ডিসেম্বরে ইউটিউবসহ ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তি পায় জি- সিরিজের ব্যানারে। জাতির পিতার জীবনকে অত্যন্ত আবেগ দিয়ে তুলে আনা এই গানটি জনপ্রিয়তা পায় শ্রোতা ও সমালোচকদের কাছেও।,


মহানায়ক গানটি নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী বলেন, গুটিকয়েক লাইনে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ জীবন ও আদর্শ তুলে ধরা সম্ভব না। চেষ্টা করেছি এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেই গানটিতে জাতির পিতাকে তুলে ধরতে। তার প্রতি যে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা এবং ভালবাসা রয়েছে, সেটিই আমি এই গানটিতে প্রকাশ করতে চেয়েছি। আমার জন্য এটি এক অন্যরকম ভাললাগার বিষয়।,


রেলওয়ে কর্মকর্তা মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী এর বাইরেও রচনা করেছেন আরও অনেক গান। সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে শতকের ঘর। এসব গানের বেশিরভাগই দেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। আর এসকল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের সব বরেণ্য শিল্পীরা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নিয়মিত চর্চা করছেন সাহিত্য এবং সংস্কৃতির। সংস্কৃতি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এই প্রকৌশলী। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার তিনি।,


শুধু গান রচনার মধ্যেই তার কর্ম সীমাবদ্ধ নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর আদর্শ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ে যে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর নির্মাণ করেছে সেটি তারই পরিকল্পনা। রেলপথমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় গড়ে তোলা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমান রেলওয়ে জাদুঘর’ এর মূল পরিকল্পনায় ছিলেন তিনি। জাদুঘরটি শোকের মাসের প্রথম দিন ১ আগস্ট দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যা এখন সারাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা ইতোমধ্যে মধ্যে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।,


একটি মিটারগেজ ও একটি ব্রডগেজ রেল কোচের ভেতরে গড়ে তোলা ভ্রাম্যমাণ এই জাদুঘরে ১৯২০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ১২ টি গ্যালারির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে পর্যায়ক্রমে তার ছাত্রজীবন, রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে গণমানুষের প্রাণের নেতা হয়ে ওঠার ইতিহাস স্থান পেয়েছে জাদুঘরে। আরও রয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও জাতির গৌরবজ্জোল একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান নায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবদান, যা দর্শকদের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে।,


দর্শনার্থীরা দেখার পাশাপাশি অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যেমন শুনতে পাবেন, তেমনি তার সম্পর্কে নানা তথ্যচিত্রও দেখতে পাবেন। জাদুঘরটিতে থিম সং হিসেবে ‘মহানায়ক’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, সাধারণত মানুষ জাদুঘরের কাছে যায়, কিন্তু আমাদের ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর মানুষের কাছে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য কর্মজীবন তুলে ধরবে। আমরা গ্রামীণ মানুষকে টার্গেট করেছি যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্টেশনে রেখে গ্রামীণ মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর জীবনী তুলে ধরা যায়।,


তিনি বলেন, আসলে একটি মাত্র কোচে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তবে সাধ্যমত চেস্টা করেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।,


মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী অবদান রাখছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণেও। তার উদ্যোগেই বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর রেল কারখানায় নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ ‘অদম্য স্বাধীনতা’। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া রেলওয়ে কারখানা শ্রমিকদের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছিল। বিকৃত হচ্ছিল ইতিহাস। সেই ইতিহাস রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া কারখানা শ্রমিকদের স্মরণে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। তিনি সৈয়দপুরে কর্মরত অবস্থায়ই এ উদ্যোগ নেন। কোনোরকম সরকারি অর্থ সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব উদ্যোগে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বেচ্ছাশ্রমে অকেজো রেলের যন্ত্রাংশ ও মালামাল দিয়ে ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয় এই স্মৃতিসৌধ।,


এভাবেই কর্মস্থলে নানামূখী অবদান রাখার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী। তার ভাষায়, অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু জীবন অনেক ছোট, এই ছোট্ট জীবনে সাধ্যমত অবদান রেখে যেতে চাই সকলের মাঝে।,



from  Sarabangla https://ift.tt/6ePyo3U

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন