এক টয়লেট স্থাপনে খরচ হবে ৫৬ লাখ টাকা - Purbakantho

শিরোনামঃ

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এক টয়লেট স্থাপনে খরচ হবে ৫৬ লাখ টাকা

ঢাকা: এক একটি টয়লেট স্থাপনেই খরচ ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। এই ব্যয় অত্যাধিক বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ব্যয় প্রাক্কলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এক্ষেত্রে কমিশন থেকে বলা হয়েছে, ইটের গাঁথুনিযুক্ত ৭০০টি অফসেট টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা, যা অত্যধিক।,


‘কক্সবাজার জেলার ইদগাঁও উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় এ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।,


পিইসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ৫০০টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপনের জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি হস্তচালিত গভীর নলকূপের প্রাক্কলিত ব্যয় পড়ে ৯০ হাজার টাকা। ডিপিপিতে প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তি ও ড্রয়িং বা ডিজাইনসহ ইঞ্জিনিয়ার্সসহ এস্টিমেট সংযোজন করা হয়নি। কিন্তু প্রাক্কলিত ব্যয় অত্যধিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ অঙ্গের ব্যয় হ্রাস করে যৌক্তিকভাবে পুনঃনির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তি ও ড্রয়িং বা ডিজাইনসহ ব্যয় বিভাজন পুনর্গঠিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংযুক্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।,


এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মোট ১২৫টি সাবমার্সিবল পাম্প, ২ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার ৪ ইঞ্চি ও ২ ব্যাসের গভীর নলকূপ স্থাপন অঙ্গে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটের একক দর ৩ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প বা জলাধার স্থাপনের ড্রয়িং বা ডিজাইনসহ ব্যয় বিভাজন পুর্নগঠিত ডিপিপিতে অন্তভুক্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।,


প্রকল্পটির আওতায় ৩টি গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই (গ্রাউন্ড ওয়াটার) সিস্টেম স্থাপনের জন্য মোট ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি মিনি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা অত্যধিক বলে মনে করে কমিশন। ডিপিপির ৪৯ নং পৃষ্ঠায় প্রধান হেডে এ ব্যয় বিভাজন দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত সিস্টেমের ড্রইং বা ডিজাইনসহ ইঞ্জিনিয়ার্স এস্টিমেট ডিপিপিতে সংযোজন উল্লেখ করা হয়নি।,


এছাড়া গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপনের জন্য প্রতিটির বিপরীতে কি পরিমাণ ভূমির প্রয়োজন হবে এবং ভূমির সংস্থান কিভাবে করা হবে সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। যে বিষয়গুলো ডিপিপিতে যুক্ত করার জন্য সভার সদস্যরা মত দেন।,


প্রকল্পের আওতায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে অর্থাৎ প্রতি মিটার ড্রেনের নির্মাণ খরচ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা, যা অত্যধিক বলে মত দেওয়া হয়।,


পিইসি সভার সভাপতি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) সত্যজিত কর্মকার বলেন, ‘দৃশ্যমান ও টেকসই ফলাফল প্রাপ্তিসহ প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন এবং পরিকল্পনা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে ভবিষতে বড় আকারে প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।’


পিইসি সূত্র জানায়, পিইসি সভার সদস্যরা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছেন সেগুলো হলো- প্রস্তাবিত গ্রামীণ পাইপবাহিত পানি সরবরাহ সিস্টেমের কেন্দ্রীয় স্থাপনাসহ ডিটেইল্ড ড্রইং বা ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ার্স এস্টিম্টে দিতে হবে। যেখানে পাম্প হাউজ নির্মাণ করা হবে তারস্থলে প্রয়োজনীয় ভূমির পরিমাণ ও প্রাপ্যতা বিষয়ক প্রত্যয়ন দিতে হবে। এছাড়া সোলার প্যানেল বা অফিস ফার্নিচার ইত্যাদির সংখ্যা ও পরিমাণ, গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সরবরাহ সিস্টেমের সরবরাহ সিস্টেমের ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই (গ্রাউন্ড ওয়াটার) সিস্টেম অঙ্গের ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।,


পিইসি সভায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের উপপ্রধান বলেন, ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার ইদগাঁও উপজেলায় বসবাসকারী জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এজন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে মোট ২৪ কোটি ৭০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি বছরের এপ্রিল হতে ২০২৪ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনের জন্য এই প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।’


প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা। এছাড়া ১২৫টি সাবমার্সিবল পাাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপ, ৩টি গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই, ৩ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৭০০টি আফসেট টুইন পিট ল্যাট্রিন, ৩টি টাইপ-এ ও ৩টি টাইপ-বি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ইত্যাদি। অনুমোদন পেলে এটি বাস্তবায়ন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই)। প্রকল্পটি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।,


ডিপিএইচই এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার ইউসুফ বলেন, ‘ইদগাঁও উপজেলা কক্সবাজার জেলার একটি নবগঠিত উপজেলা, যা গত বছরের ২৬ জুলাই ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলাটির আয়তন ও বর্তমান জনসংখ্যা ১১৯.৬৬ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩২২ জন। উপজেলার পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে এর অধিকাংশ স্থান পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সুপেয় পানির জন্য প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতায় নলকূপ স্থাপন করতে হয়, যা উপজেলার সাধারণ ও দরিদ্র গোষ্ঠির জন্য অনেক ব্যয় বহুল। এখানে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ সিস্টেমের অপ্রতুলতাসহ সার্বিক স্যানিটেশন সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।’


বিশেষত বৃহৎ আয়তনের ইদগাঁও বাজারে কোনো ড্রেন নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের মাল্টিপাল ইনসাইডার ক্লোজটার সার্ভে (এমআইসিএস-২০১৯) মোাতাবেক বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় সেফলি ম্যানেজড ওয়াটার সাপ্লাই কভারেজ মাত্র ৫২.১০ শতাংশ, যা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।,


পিইসি সভায় কার্যক্রম বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, ‘উপজেলাভিত্তিক এ ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের পরিবর্তে বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প নেওয়া দরকার।’


সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রতিনিধি বলেন, ‘এসডিজি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। সে জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্প দলিলে লগ ফ্রেমের লক্ষ্য এবং উদ্দেশের মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন।’ তিনি এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে লগফ্রেম সংশোধনের বিষয়ে মত দেন। এছাড়াও প্রকল্পের ফলাফল টেকসই করার জন্য এক্সজিট প্ল্যানের রূপরেখা এবং সোলার প্যানেলের রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি পুনর্গঠিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলেন।,


কক্সবাজার জেলার নবগঠিত ইদঁগাও উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ৫টি ইউনিয়নে কোথায় কি কার্যক্রম করা হবে তার তালিকা লোকেশন ম্যাপসহ ডিপিপিতে অন্তভুক্ত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।,




from জাতীয় – Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment https://ift.tt/6D4s9gR

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন