আউশের পর আমনের আবাদও কমেছে - Purbakantho

শিরোনামঃ

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আউশের পর আমনের আবাদও কমেছে

ঢাকা: দেশে আউশের পর আমনের আবাদও কমেছে। চলতি বছর আউশের আবাদ কমেছে প্রায় ১ লাখ হেক্টর। আর আমনের আবাদ কমেছে প্রায় ২ লাখ হেক্টর। আউশ আর আমনে প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হওয়ায় ধানের উৎপাদন ৯ লাখ টন (হেক্টর প্রতি গড়ে ৩ টন ধরে) কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এবার শুধু যে আমনে আবাদ কমেছে তাই নয়, মৌসুমের শুরুতে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় যেসব জমিতে আবাদ হয়েছে সেখানেও উৎপাদন কম হবে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার আমনের উৎপাদন কম হবে এটা নিশ্চিত। দুই মৌসুমে (আউশ ও আমনে) ধানের উৎপাদন প্রায় ২০ লাখ টনের মতো কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন অনেকে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, খরচ বাড়লেও উৎপাদন ততটা কম হবে না।,

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম বলেন, ‘আগাম বন্যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জে আউশের আবাদ কম হয়েছে। আউশ আসলে এমনই। এটি পুরোটাই প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।’ আমন প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, ‘আমনের উৎপাদন এখন পর্যন্ত ২ লাখ টন কম, মানে আমনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না— এমনটি নয়। ,


বরিশাল ও খুলনা এলাকায় এখন আমন লাগানো হচ্ছে। তারা আমন রোপন করছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে তারা দেরিতে আমন রোপন করে। বরিশাল ও খুলনা এলাকায় আমন রোপন শেষ হলে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। শুধু তাই নয়, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আমনের আবাদ বেশি হবে। কারণ এমন অনেক জমি আছে যেখানে সারা বছর পানি লেগে থাকত, বৃষ্টি কম হওয়ায় সেখানে এবার আমনের আবাদ করা গেছে। ফলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমনের আবাদ বেশি হবে।’


এক প্রশ্নের উত্তরে কৃষি সম্প্রসারণের ডিজি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় আমন রোপন বিলম্ব হয়েছে। সেচ কাজে খরচ বেড়েছে। তবে উৎপাদন কম হবে এমন নয়। কারণ এখন বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি খুবই উপকারী। তিনি আরও বলেন, লাগাতে দেরি হয়েছে, খরচ বেড়েছে। তাই বলে আবাদ কম হবে, উপাদন কম হবে— এমনটি নয়। আমরা আশা করি আমনের উৎপাদন আরও বেশি হবে। ধানের উৎপাদন ঠিকই থাকবে।’


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উংয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৭ লাখ ১৫ হেক্টর জমিতে। আবাদে অগ্রগতির হার ৯৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এদিকে, গত বছর আমন আবাদ হয়েছিল ৫৯ লাখ ৩ হেক্টর জমিতে। ফলে চলতি মৌসুমে আবাদ কম হয়েছে প্রায় ২ লাখ হেক্টর। আমনের সাধারণ গড় ফলন হেক্টরে ৩ টন। সে হিসাবে আমনের উৎপাদন কম হবে প্রায় ৬ লাখ টন। এদিকে, এবার ভরা বর্ষায় দীর্ঘ সময় অনাবৃষ্টি দেখেছে বাংলাদেশ। এর ফলে আমনের রোপন কাজ বিলম্ব হয়েছে। কোথাও কোথাও সেচযন্ত্র ব্যবহার করে রোপন করা হয়েছে আমন। বৃষ্টি না থাকায় রোপনের পর মাঠের পর মাঠ আমনের ক্ষেত লালচে হয়ে যায়। কোথাও কোথাও মরেও যায় রোপন করা আমন। এর ফলে আবাদ করা জমিতেও আমনের উৎপাদন কমবে।,


এদিকে, চলতি বছর আউশ আবাদ হয়ছিল ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে। ক্ষয়ক্ষতি বাদে অর্জিত জমি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ২৬২ হেক্টর। অর্থাৎ আউশের আবাদ হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ হেক্টর জমিতে। এখন ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাটা হয়েছে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমির আউশ ধান। কর্তনকৃত জমিতে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২ দশমিক ৭৯ টন। সমপরিমাণ জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০৩ টন। আর এখন পর্যন্ত কর্তনের হার ৭৮ শতাংশ। এদিকে গত বছর আউশ আবাদ হয়েছিল ১১ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলে গত বছরের চেয়ে এবার আউশের আবাদ কম হয়েছে প্রায় ১ লাখ হেক্টর। সে হিসাবে আউশের উৎপাদন কম হবে প্রায় ৩ লাখ টন।,


জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এবার আউশ ও আমনের আবাদ কম হয়েছে। আমনের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আবার দীর্ঘ মেয়াদী খরার কারণে আমনের রোপন দেরি হয়েছে। এর ফলেও আমনের উৎপাদন কম হবে। সাধারণত আমনের উৎপাদন হয় ১ কোটি ৫০ লাখ টন। এবার উৎপাদন হতে পারে ১ কোটি ৩৫ লাখ টন। আউশের উৎপাদন সাধারণত ৩০ লাখ টন হয়ে থাকে। এবার উৎপাদন হতে পারে ২৫ লাখ টন। এবার দুই মৌসুমে ২০ লাখ টনের মতো ধানের উৎপাদন কম হতে পারে বলে ধারণা করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘তাই স্বাভাবিকভাবেই অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ কম হবে। ফলে বাইরের উৎস থেকে আমাদের আমদানি করতে হবে। এছাড়া এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে রবি মৌসুমে চীনা বাদাম, কাউন, গম, ভুট্টা ও আলু উৎপাদনে জোর দিতে হবে। এতে ধানের উপর নির্ভরতা কমবে। আর সামনের বোরো মৌসুমের আগেই জ্বালানি তেল ও সারের দাম কমাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে যেকোনো মূল্যে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়।’


এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যে জায়গায় আবাদ হয়নি, সে জায়গাত তো বাদই। আবার আমন রোপন করা হলেও বৃষ্টি ছিল না। ফলে সেখানেও উৎপাদন কম হবে। অনাবৃষ্টির কারণে এবার আমনের উৎপাদন এমনিতেই কম হবে। উৎপাদন কম হবে সেটা নিশ্চিত। তবে কতটুকু কম হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না ,


তিনি বলেন, ‘খরার কারণে সামনের বোরো মৌসুমেও প্রভাব থাকবে। সেজন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘চাল আমাদের আমদানি করতেই হবে। সেটি বেসরকারিভাবে করে লাভ হবে না। সরকারিভাবে চাল আমদানি করতে হবে, যদিও সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে।,




from Sarabangla https://sarabangla.net/post/sb-708950/

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন