‘অহেতুক টাকা ব্যয় করব না, পরিকল্পিতভাবে এগুতে হবে’ - Purbakantho

শিরোনামঃ

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

‘অহেতুক টাকা ব্যয় করব না, পরিকল্পিতভাবে এগুতে হবে’

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব প্রকল্প আমাদের একেবারে আশু শেষ করা প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত শেষ করব। যেগুলোর এখনই প্রয়োজন নেই, সেগুলো ধীরগতিতে হবে। আমরা অহেতুক টাকা ব্যয় করব না। এভাবেই আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগুতে হবে। তাহলেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।,


বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ আইডিইবি)-এর ২৪তম জাতীয় সম্মেলন ও ৪৩তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তে যুক্ত ছিলেন।,


‘সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।,


প্রধানমন্ত্রী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দেশের সব উন্নয়ন ও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। আপনাদের ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অনুসারে পেশাগত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। আশা করছি খুব দ্রুত সমাধান হবে। আমিও খোঁজ নিয়ে দেখব, এসব বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা কেন দেখা দিচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, করোনাভাইরাস এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে অনেক কাজই আমরা করতে পারেনি। গত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যাটা আমরা মোকাবিলা করছি। আপনাদের সমস্যাগুলো অবশ্যই দেখব। আপনারা খুব ভালো করে জানেন, আপনাদের সঙ্গে আমার একটা আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি আসার পর থেকেই আপনাদের জন্য যা যা করার আমি চেষ্টা করেছি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই যে, গ্রামের মানুষ সকল নাগরিক সুবিধা পাবে এবং গ্রামে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যাতে মানুষ শহরমুখী না হয়। তাছাড়া যুব সমাজ যেন স্বপ্রণোদিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’ মুজিববর্ষে উন্নয়নশীল দেশের মর্যদা প্রাপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলেও অবহিত করেন তিনি।,


এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে সেজন্য সবাই যার যা কর্মস্থল, গ্রামের জমিজমায় যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সেভাবে ফসল উৎপাদনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে একটা দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমরা দেখতে পাচ্ছি। এর প্রভাব থেকে আমাদের দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে।’


জাতির পিতার আদর্শ বুকে নিয়েই আমরা পথ চলি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা অন্তত এইটুকু দেখাতে পারি, আমাদের এইটুকু শক্তি আছে- কারও কাছে হাত পেতে আমরা চলব না। আমরা আমাদের মর্যাদা নিয়ে চলব। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। আমাদের কিন্তু সেভাবেই নিজেদের গড়ে তুলবে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও গড়ে তুলে তুলতে হবে।’


সারাদেশে ঘরে ঘরে শতভাগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুভার্গ্যের বিষয় আজ শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে তারা রেশনিং করছে। কাজেই আমাদেরও সেই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।’


বঙ্গবন্ধুকন্য বলেন, ‘যেহেতু বিভিন্ন পণ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, সেহেতু আমাদের কৃচ্ছতা সাধন করতে হচ্ছে। এখন থেকে আমাদের সকলকেই কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে। সঞ্চয় করতে হবে। কোনো কিছুতেই যেন আমরা অতিরিক্ত ব্যয় না করি- সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘আমেরিকা বলেন, আর ইউরোপ বলেন, কিংবা ইংল্যান্ড বলেন- সব দেশেই বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে। তারা পানির ব্যবহার সীমিতের নির্দেশ দিচ্ছে। এমনকি ইউরোপের কোনো কোনো দেশ বলছে, গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। হিটিং সিস্টেম থাকবে না। আগামী শীতে তারা কী করবে, সেটা নিয়ে শঙ্কিত। এরকম একটা পরিস্থিতিতে আমাদের মতো দেশকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। আগে থেকেই মিতব্যয়ী হতে হবে, সঞ্চয়ী হতে হবে। আর উৎপাদন বাড়াতে হবে।’


শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের সব মানুষকে আমরা সুন্দর জীবন দিতে চাই। জাতির পিতা এদেশের ভূমিহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের ভূমি দিয়েছেন, খাস জমি বিতরণ করেছেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে। একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলে আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে উঠবে।’


এ সময় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি এ কে এম এ হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।,




from Sarabangla https://ift.tt/bsfEmjY

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পৃষ্ঠাসমূহ