সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান - Purbakantho

শিরোনামঃ

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

ঢাকা: দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। সাম্প্রদায়িকতা-সামাজিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শের রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা চক্রে এসব কথা বলেন বক্তারা।

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।,


প্রধান অতিথির বক্তব্যে রামেন্দু মুজমদার বলেন, ‘যথাযথ বিচার না হওয়ায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সব রাজনৈতিক দল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। তাদেরকে রাজনীতি থেকে ধর্মকে বাদ দিতে আমাদের বাধ্য করতে হবে। আমরা একটি সহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও যুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’


সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে কীভাবে সমাজের সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষ সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন তার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সামরিকের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ সামাজিকও ছিল। কিন্তু আমরা এখন একাত্তরের থেকেও খারাপ অবস্থায় আছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়ত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে, তাদের বাধ্য করতে হবে আবারও মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শে ফিরিয়ে আনতে।’


লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে রাজনৈতিকদলগুলো পুঁজিবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। যার ফলে সংসদে প্রার্থী হিসেবে নোমিনেশন পাচ্ছে কালো টাকার মালিক, কোনদলেই তৃণমূলের কর্মীরা আর মূল্যায়িত হচ্ছে না। ফলে দেশেও পুঁজিবাদের এজেন্টরা এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে। আজকের বাংলাদেশে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকের ছড়াছড়ি, নারীর প্রতি সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সীমাহীন দুর্নীতি, কালো টাকার দৌরাত্ম। আর এর সবকিছুর মূলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যেয়ে পুঁজিবাদের কাছে আত্মসমপর্ণ করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাম্যবাদী রাষ্ট্র নির্মাণে তরুণ সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।’


অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সারাক্ষণ বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে নিলেও তার যে চেতনা সেটি থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। আজকে সমাজে ন্যায় বিচার নাই, মানুষের আয় নাই, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে উর্দ্ধশ্বাস, সড়কে বিশৃঙ্খলা- এরকম একটা প্রেক্ষাপটে এসে যদি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই তাহলে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নাহলে আজ থেকে বিশ বছর পরে এসে হয়ত এমন দিন আসবে যখন আওয়ামী লীগ-বিএনপি মিলেমিশেও দেশ থেকে ধর্মান্ধ শক্তিকে নির্মুল করতে পারবে না, আমাদের পরিণতি হবে আফগানিস্তানের মত।’


অর্থনিতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের যে চার নীতির মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন তার কোনটিই ধরে রাখতে পারিনি। এখন দেখা যায় সমাজের সব জায়গায় ধর্ম দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার, পোশাক কি হবে না হবে, পাঠ্যবইয়ে কী পড়াতে পারবে না পড়বে এগুলো সবই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে সমাজের ভেতরেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা হত ফলে এগুলো এত বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছাত না। কিন্তু এখন সেটি হচ্ছে না।’


নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার যা খুশি তাই করছে। যে বামপন্থিরা সবসময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকত, নেতৃত্ব দিয়েছে সেই তারাও এখন নিজেদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত। সমাজের এই ধর্মান্ধ অবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। আলোচনা করে কোন লাভ নাই। পরিবর্তনের জন্য এখনই কাজ শুরু করতে হবে।’


নারী অধিকারকর্মী খুশী কবীর বলেন, ‘পরিবর্তন আনার জন্য একই চিন্তাধারার মানুষের মধ্যেই শুধু নয়, ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মধ্যে। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে তারা নারীর উপর আঘাত করতে চায়, নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে। এটি থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বর্তমানে শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের নানা দেশেই সামাজিকসহ নানা ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে।’



from  Sarabangla https://ift.tt/3TvBOou

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন