‘নাগরিক পরিসরে উন্নয়নে প্রবাসীদের দেশে আনতে হবে’ - Purbakantho

শিরোনামঃ

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২

‘নাগরিক পরিসরে উন্নয়নে প্রবাসীদের দেশে আনতে হবে’

ঢাকা: দেশের নাগরিক সমাজেও এখন বিভাজন দেখা দিয়েছে। নিরাপদ ভবিষ্যতের চিন্তায় তাদের অনেকেই এখন বিদেশমুখী। নাগরিক পরিসরের উন্নয়নে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এল অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘বাংলাদেশ সিভিক স্পেস নেটওয়ার্ক’। নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক পরিসরের উন্নয়নে যাত্রা শুরু করেছে এটি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিনের উদ্যোগে তরুণ, নারী ও ট্রান্সজেন্ডার নেতৃত্বাধীন দেশের আটটি বিভাগের ২৩টি কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের সমন্বয়ে এই নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে।,


নাগরিক পরিসরে ট্রান্সজেন্ডার, নারী ও তরুণদের গুণগত অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এডভোকেসি করা, অনলাইনে সচেতনতামুলক ক্যাম্পেইন করা এবং নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় পারস্পরিক সহযোগিতা করাই নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্দেশ্য বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।,


আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজনীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা। অনুষ্ঠানে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার প্রোটেকশন ম্যানেজার হাসিনা আক্তার, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মরিয়ম শেলীসহ নেটওয়ার্কভুক্ত ২৩ সংগঠনের নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।,


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার চর্চার পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নাগরিক সমাজ ও সংগঠনগুলোকে সংঘবদ্ধভাবে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য নাগরিকদের মধ্যে অধিকারবোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।,


সভাপতির বক্তব্যে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া নাগরিক পরিসরের উন্নয়ন ও প্রসার সম্ভব নয়। নবগঠিত নেটওয়ার্ক নাগরিক অধিকার বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা, চ্যালেঞ্জ, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাধা ও চ্যালেঞ্জ উত্তরণে যৌথ কর্মপন্থা ঠিক করবে।,


আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ বছর পূর্তি হবে। গত ৫০ বছরে প্রণীত বিভিন্ন আইন সংবিধানের আলোকে পর্যালোচনা করে সংশোধন এমনকি বাতিল পর্যন্ত করা হয়েছে। অথচ ঔপনিবেশিক শাসনকালের বিভিন্ন নিবর্তনমুলক আইন বাতিল করার ক্ষেত্রে এমন তৎপরতা নেই। বরং ওই সব আইন স্বাধীন দেশের নাগরিকদের অধিকার খর্ব করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।,


অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, ঔপনিবেশিক আইনে যৌন বৈচিত্রপূর্ণ মানুষের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ হিসেবে শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এ ধরনের আইন মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী।,


সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এজন্য নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।,


অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্কভুক্ত আটটি বিভাগের সংগঠনের নির্বাহী ও প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার বিশেষ করে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।,



from Sarabangla https://ift.tt/FTyVzad

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন