জাপানের কানসাইয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত - Purbakantho

শিরোনামঃ

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

জাপানের কানসাইয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে জাপানের কানসাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওসাকার তয়োনাকা সিটি লাইফ সেন্টার মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আজ রোববার এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্যরা। পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।,


কানসাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাদাত মো. সায়েমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যোগ দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু।,


তিনি বলেন, পৃথিবীর একমাত্র ভাষা ও জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্রষ্টা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশবিরোধী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিছু দুষ্কৃতকারী সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। এটা ছিল ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে ১৫ আগস্ট এক কলঙ্কিত দিন। বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে বেদনার দিন।,


মো. আশরাফ আলী খান খসরু আরও বলেন, জেনারেল জিয়া ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সসহ সকল অবৈধ ও অসাংবিধানিক আইনকে বৈধভাবে প্রণীত আইন বলে ঘোষণা দিলো, যা ছিল সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। সেই সংশোধনীতে এটি উল্লেখ করা হলো, কোনও আদালতে এই সকল আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। ১৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারগুলো ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের দোহাই দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে দেয়নি। তারা শুধু খুনিদের পক্ষেই অবস্থান নেয়নি তাদেরকে পুরস্কৃত করেছিল। জিয়া, এরশাদ ও খালেদার সরকার খুনিদের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল।"


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক কিংবা ভৌগোলিক স্বাধীনতা দিয়ে যাননি। বাঙালির অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি ও অগ্রগতির জন্য যুগান্তকারী সাংবিধানিক, আইনি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়ে গিয়েছিলেন। এগুলোর অনেকটাই তিনি খুব অল্পসময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদ মাত্র দশ মাসের মধ্যে একটি বিশ্বমানের সংবিধান উপহার দিয়েছিল। পৃথিবীতে এতো স্বল্পতম সময়ে কোনও রাষ্ট্র তার সংবিধান তৈরি করতে পারেনি।,


বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে—বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে বিশ্বে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই বাংলাদেশ এক উদীয়মান নক্ষত্র, এই বাংলাদেশ অদম্য, এই বাংলাদেশ অকুতোভয় বলেও জানান মো. আশরাফ আলী খান খসরু।,


সভাপতির বক্তব্যে আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, ১৫ আগস্ট এক বেদনাসিক্ত দিন। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে যোগ হয়েছে এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অধ্যায়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে ওই দিন হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা পায়নি শিশু থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীও। ঘাতকের গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছে ২৬ জনের প্রাণ।,


তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনায় প্রত্যক্ষ কয়েকজন খুনীর সাজা হয়েছে মাত্র। কিন্তু দেশের ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকা-ের নেপথ্যের সব কুশীলবকে আনতে হবে প্রকাশ্যে। এমনকি তারা যদি মারাও গিয়ে থাকেন, ইতিহাসের সত্যের খাতিরে তাদের দায় ও অবস্থান নিরূপণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি জাতীয় কমিশন গঠন। আজ এটিই জরুরী দাবি।,


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, আজ বাংলার ঘরে ঘরে জয় বাংলার শ্লোগানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। বাংলার আকাশ বাতাস কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার তারই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হয়েছে, বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।,


উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মাসুদুল হাসান বলেন, যেসব দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল, যারা জয় বাংলার শ্লোগান বন্ধ করেছিল, ওই খুনের বিচার হবে না বলে যারা দাম্ভিকতা দেখিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ইস্পাত-দৃঢ় নেতৃত্বে তাদের বিচারের মুখোমুখি করে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে।,


সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ দুটি নাম, একটি ইতিহাস। এক এবং অভিন্ন। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিলে বাংলাদেশ মানচিত্রে কল্পনা করা অসম্ভব। বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, বিশ্ববন্ধু (ফ্রেন্ড অব দ্যা ওয়ার্ল্ড) ইত্যাদি বিশেষণ বিশ্লেষণ করলেই প্রতীয়মান হয়, তিনি বাংলাদেশের জন্য কী করেছেন।,


আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আশরাফুল আলম রোমেল, দফতর সম্পাদক সাইফুল আলম, সহ দফতর সম্পাদক শাহ লালন, কানসাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ জনি, সাধারণ সম্পাদক অজিত দাশ, ওসাকা ছাত্রলীগ সভাপতি সাকিব হাসান, কানসাই বাংলাদেশ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল আজাদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান আকাশ, কানসাই বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহফুজুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার হোসাইন সুখন প্রমুখ।,




from  Sarabangla https://ift.tt/Tym61wJ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন