শ্রীপুরে দুই মাথা বিশিষ্ট এক অদ্ভুদ শিশুর জন্ম
আশরাফ হোসেন পল্টু : মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামের পল্লীতে এক হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ মিতা বেগম। মনে তাঁর অনেক আশা ছিল । তিন কন্যা সন্তানের পর এবার তিনি পুত্র সন্তানের মুখ দেখবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিধি হলো বাম। পুত্র সন্তান তার ঠিকই জন্ম নিয়েছে কিন্ত অস্বাভাবিক।
শুক্রবার রাত ১টার দিকে তাঁর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে একটি মাত্র পেট, দুই প্রান্তে দুইটি মাথা, তিনটি পা, একটি পুরুষাঙ্গ ও চারটি হাত বিশিষ্ট এক অদ্ভুদ এক পুত্র সন্তান । শিশুটিকে একনজর দেখতে গভীর রাত থেকেই ওই বাড়িতে শতশত লোক ভীড় জমাচ্ছেন । গৃহবধূ মিতা বেগম ওই গ্রামের দিনমজুর হানিফ আলী খানের স্ত্রী।,গৃহবধূ মিতা বেগম ও হানিফ আলী খাঁনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা অত্যন্ত গরীব মানুষ। রাজমিস্ত্রির কাজ করে তাদের সংসার চলে। কোনদিন খেয়ে, কোনদিন না খেয়ে তাদের দিন চলে । তিনটি কন্যা সন্তানের পর এবার তাঁরা আশায় বুক বেঁধে একটি পুত্র সন্তানের আশায় গর্ভে নতুন করে সন্তান ধারণ করেছিলেন। দীর্ঘ নয়টি মাস অতিক্রম করতেই শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই প্রসব বেদনা শুরু হয় মিতা বেগমের । পরিবারে চরম আর্থিক অনটনের কারণে ডাক্তার দেখানোর সৌভাগ্য তাদের জোটেনি।,
রাত ১টা বাঁজতে না বাঁজতেই নিজ জীর্ণশীর্ণ কুঠিরেই স্বাভাবিক নিয়মেই গৃহবধূর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় এক অদ্ভূদ আকৃতির শিশু। শিশুটিকে এক নজর দেখার পরই অসুস্থ্য গর্ভধারিণী মা মিতা বেগম বারবার মূর্ছা যায়। শিশুটি স্বাভাবিক শিশুর ন্যায় মাথা, মুখ, চোখ, কান, হাত, পা, পুরুষাঙ্গ সঠিক থাকলেও শিশুটির দেহের গঠন ও আকৃতির মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। শিশুটির একটি মাত্র পেট, দুই প্রান্তে দুইটি মাথা, তিনটি পা, চারটি হাত, একটি পুরুষাঙ্গ, দুইটি মাথায় চারটি কান, চারটি চোখ, দুইটি গাল ও একটি নাভী বিশিষ্ট ব্যতিক্রমধর্মী শিশুটির আকৃতি। ব্যতিক্রমধর্মী এই শিশুটিকে দেখতে ওই বাড়িতে অসংখ্য লোক ভীড় জমাচ্ছেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে ও তার মাকে চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহের তেমন কোন সামর্থ না থাকায় পরিবারের লোকজন মা ও সন্তান উভয়কে নিয়েই চরম দুঃচিন্তার মধ্যে ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় ওইদিন বিকেলেই শিশু ও শিশুটির মাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শিশুটির মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।,
এবিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল হাই পূর্বকন্ঠকে জানান, শিশুটির অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল থাকলেও তার মলদ্বার খুজে পাওয়া যায়নি। তবে, শিশুটি আপাতত সুস্থ্য আছে এবং তাকে শিশু হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।,’

