এই মাত্র পাওয়া

পূর্বধলায় দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরোধ চরমে, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

শফিকুল আলম শাহীন : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড সদস্যেদের ওপর জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কর্তৃক হামলার ঘটনায় দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরোধ এখন চরমে।

গত তিনদিন ধরে এ নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ নিয়ে উপজেলা প্রসাশন ও উপজেলা স্কাউট কমিটিসহ শিক্ষক নেতারা বৈঠকের পর সমাধানের সিদ্ধান্তে পৌঁছলেও মঙ্গলবার  দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। টানা সাড়ে তিন ঘন্টাব্যাপী চলা অবরোধ কর্মসূচীর ফলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে যানবাহান আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

খবর পেয়ে বিকাল ৪টারদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা কবির ও যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়।

উপজেলা স্কাউট কমিটির সম্পাদক ও জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনার পর থেকে তাকে দায়ী করা হচ্ছিল।

এ নিয়ে গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্কাউট কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে স্কাউট কমিটির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিষদ চত্বরে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয় এবং আমাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে স্কাউট কমিটির সম্পাদকের পদ থেকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেই।

এ খবরে জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ওই দিন বৈঠকে সর্বসন্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গহণ করবে জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে তিনদিনের মধ্যে চিহিৃত করে অভিবাবকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বহিরাগত থাকলে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরদিকে স্কাউট কমিটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম তার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। 

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল আলম  বলেন, এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) সৈয়দ মেহেদী হাসান জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের জালশুকা কুমুদগঞ্জ গ্রামের অর্নব বনিক মুগ্ধ (১৬) ও মিনার (১৭) এই দুইজনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনের নামে পূর্বধলা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা কবির বলেন, শিক্ষকের পদত্যাগের বিষয়টি বাংলাদেশ স্কাউটস আঞ্চলিক কমিটি দেখবে ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে। 

প্রসঙ্গত- গত শনিবার (৮মার্চ) উপজেলার জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে শাপলা কাব ও প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেত্রকোনা সদর ও পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৩জন স্কাউট শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

লিখিত পরীক্ষা শেষে দুপুরে কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী সোয়াই নদীতে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সাঁতার শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার পথে জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। 

এতে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত আকন্দ, জুনায়েদ, সোয়াদ মুহাম্মদ স্বচ্ছ, সাবিকুল হাসান মহৎ, খালিদ হোসেন আনবী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী জুনায়েদ এবং রাব্বী নামের ৭ শিক্ষার্থী আহত হয়।  এদের মধ্যে গুরুতর আহত আরাফাত আকন্দ,জুনায়েদ ও তানভীর আহমেদকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 


এই পোস্টটি শেয়ার করুন
সবার আগে কমেন্ট করুন
কমেন্ট করতে ক্লিক করুন
comment url
আজকের সেরা খবর গতকালের সেরা খবর
ভিডিও গ্যালারি