নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা অপরিহার্য: প্রধান উপদেষ্টা
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক ও মেজর (অব.) ফজলুর রহমান বীর প্রতীক।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, মেজর (অব.) সৈয়দ মিজানুর রহমান পিএসসি, মেজর (অব.) এ কে এম হাফিজুর রহমান, মনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্ভব শ্রদ্ধা করে। কিন্তু এই শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে অতীতে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে যেন এমনটি আর না ঘটে, সে ব্যবস্থাই এখন জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থে একসময় এসব প্রতিষ্ঠানকে খেলার পুতুলে পরিণত করা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বের করে আবার প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা একটি পবিত্র দায়িত্ব। কয়েক বছর পর আর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাদের স্মৃতি ধরে রাখতেই হবে। এজন্য এখন থেকেই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাতির ভেতরে অবিনশ্বর হয়ে থাকে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, বিগত সরকার মুক্তিযোদ্ধার চেতনার কথা বললেও বাস্তবে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এতে মর্মাহত ছিলেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব জঞ্জালমুক্ত করতে কাজ করছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে সফল দায়িত্ব পালন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না এবং সরকার জনগণের কাছে আরও দায়বদ্ধ হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখন নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। সংস্কার ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তন না হলে আমরা বারবার একই জায়গায় ফিরে যাব।
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে নিজেদের পরিচয় দিতেও দ্বিধা হতো। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতের মতো কেউ যেন আবার গন্ডগোল সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, শ্রদ্ধা ও স্মরণযোগ্য করে রাখতে যে সম্পদ রয়েছে, তা দেশের স্থায়ী কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। সরকার থাকবে বা না-থাকবে, নাগরিক হিসেবে এই দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।
.jpg)
