এই মাত্র পাওয়া

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক:  আজ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার, যা মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ নামে পরিচিত। মর্যাদা, ফজিলত ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যে ভরপুর এই দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রমজানের বিদায় লগ্নে এসে এই দিন যেন আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়।

রমজান মাসের শেষ জুমা হওয়ায় এ দিনের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়। মুসলমানদের মাঝে একটি উপলব্ধি কাজ করে—জীবন অনিশ্চিত, তাই আগামী বছরে আরেকটি রমজানের জুমা পাওয়ার সৌভাগ্য নাও হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তারা জুমাতুল বিদাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেন এবং বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

আজ দেশের প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে লক্ষণীয়ভাবে বেশি। নামাজ শেষে তারা আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ক্ষমা, রহমত ও নাজাত কামনা করেন। নিজেদের গুনাহ মাফের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, দেশ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনেক মসজিদে খুতবায় রমজানের শিক্ষা, তাকওয়া অর্জন এবং পরবর্তী জীবনে তা বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এ দিনটি ‘আল কুদস দিবস’ হিসেবেও বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফিলিস্তিনসহ নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ইফতারের আগে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জুমাতুল বিদা মুসলমানদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, অনুশোচনা ও নতুন প্রতিজ্ঞার দিন। রমজানজুড়ে অর্জিত সংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার শিক্ষা যেন সারা বছর জীবনে প্রতিফলিত হয়—এই প্রত্যাশাই থাকে সবার মধ্যে।

সব মিলিয়ে, জুমাতুল বিদা একদিকে যেমন রমজানের বিদায়ের বেদনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে তেমনি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের এক মহামূল্যবান সুযোগ হিসেবে মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন
সবার আগে কমেন্ট করুন
কমেন্ট করতে ক্লিক করুন
comment url
আজকের সেরা খবর গতকালের সেরা খবর