এই মাত্র পাওয়া

শফিকুল আলম শাহীন: আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে এসেছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে—নগর থেকে গ্রাম, ঘরে ঘরে।

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আত্মসংযম, ত্যাগ ও তাকওয়ার শিক্ষায় উদ্ভাসিত এই দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য শুধু আনন্দের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মানুষ যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা অর্জন করে, ঈদুল ফিতর সেই অর্জনকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।

ঈদুল ফিতরের অন্যতম তাৎপর্য হলো সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করা। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভবের মধ্য দিয়ে ধনী-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে আনার যে শিক্ষা রমজান দেয়, ঈদ সেই চেতনাকে আরও বিস্তৃত করে। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করার বিধান ইসলামের মানবিক ও সাম্যের দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন—যা পারস্পরিক সমতা ও সৌহার্দ্যের এক শক্তিশালী প্রতীক।

ঈদকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গরম, যানজট, দীর্ঘ পথযাত্রা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ক্লান্তি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ ছুটে গেছেন আপনজনের কাছে। নাড়ির টানে ঘরে ফেরার এই যাত্রা যেন বাঙালির চিরন্তন আবেগের প্রতিফলন। প্রিয়জনের মুখ দেখার আনন্দে সব ক্লান্তি মিলিয়ে গেছে। চিরচেনা বাড়ির উঠান, মায়ের স্নেহমাখা ডাক, বাবার আন্তরিকতা আর ভাইবোনের খুনসুটিতে ফিরে এসেছে এক অনাবিল প্রশান্তি।

রাজধানীসহ সারা দেশে এখন উৎসবের আমেজ। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে ছিল আতর, টুপি, পোশাক ও সেমাই-চিনি কেনার ভিড়। রাত গভীর হলেও থামেনি কেনাকাটার ব্যস্ততা। গৃহিণীরা ভোর থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রান্নাবান্নার শেষ প্রস্তুতিতে—সেমাই, ফিরনি, পোলাও, কোরমা ও নানান মুখরোচক খাবারের আয়োজন চলছে ঘরে ঘরে।

অন্যদিকে, রাজধানীর বিউটি পারলারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন। ঈদকে ঘিরে সাজগোজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন তরুণী ও নারীরা। রাত জেগে হাতে মেহেদি আঁকার আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। নকশায় নকশায় ফুটে উঠেছে উৎসবের রঙিন আবহ। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ ছিল স্পষ্ট—নতুন পোশাক, ঈদির প্রত্যাশা আর সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনায় তারা উচ্ছ্বসিত।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবে ঈদমেলা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলা দেখা যায়। নাগরদোলা, খেলনা, মিষ্টি ও নানা পসরা নিয়ে জমে উঠেবে এসব মেলা। পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে ঘুরতে যাবেন অনেকেই, যা ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে।

ঈদের দিন সকালেই মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে সমবেত হবেন লাখো মুসল্লি। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে বিনিময় করবেন শুভেচ্ছা—‘ঈদ মোবারক’। এভাবেই ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের কাছাকাছি আসে, মজবুত হয় সামাজিক বন্ধন।

সব মিলিয়ে ত্যাগ, সংযম, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বুকে ধারণ করে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক—এমন প্রত্যাশাই সবার।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন
সবার আগে কমেন্ট করুন
কমেন্ট করতে ক্লিক করুন
comment url
আজকের সেরা খবর গতকালের সেরা খবর