শোক- পূর্বধলার প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব
পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, জামিয়া কওমিয়া দারুল উলুম সেহলার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। কয়েক দফা ময়মনসিংহে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি ৭ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে সেহলা মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, সদস্য সচিব এএসএম শহীদুল্লাহ ইমরান, হোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেবের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামে। তিনি নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করে সেহলা মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এরপর বালিয়া ও ইসলামপুর মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে সোহাগী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি তারাকান্দা উপজেলার টিলাটিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে জামিয়া কওমিয়া দারুল উলুম সেহলায় যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর নিকট থেকে খেলাফত গ্রহণ করেন। তার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও মুরিদ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছেন।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চারদলীয় জোটের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।তার ইন্তেকালে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


