ঈদের ছুটিতে বেড়াতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে - Purbakantho

শিরোনামঃ

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

ঈদের ছুটিতে বেড়াতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে

মৌলভীবাজার: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য এক আদর্শ স্থান। এখানে অল্প খরচে প্রকৃতির অপূর্ব সান্নিধ্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। একসময় উদ্যানটি আসামের কাছাড়ের জঙ্গলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক এ বনটি উজাড় আর অযত্নের ফলে এখন একটি বিচ্ছিন্ন জঙ্গল। তবে এখনও নৈসর্গিক সৌন্দর্যে অপূর্ব লাউয়াছড়া।

লাউয়াছড়ার প্রবেশ পথেই মিলবে টিকেট কাউন্টার। সেখান থেকে জনপ্রতি জনপ্রতি ২৫ টাকা মূল্যে টিকেট কেটে যাওয়া যাবে ভেতরে। ‘চাইলে নেওয়া যাবে ট্যুর গাইডও, সময় হিসেবে গাইডের পারিশ্রমিক পড়বে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।’

টিকেট কাউন্টারের পাশ দিয়ে কিছুটা হেঁটে গেলেই বিট অফিস, চায়ের দোকান (এখানে বিখ্যাত সাত রঙা চা পাওয়া যায়, গ্লাস প্রতি মূল্য ৭০ টাকা, পাবেন হাল্কা খাবার), পুলিশ ফাঁড়ি। আর দেখা যাবে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথ। ৫০ এর দশকে হলিউডের বিখ্যাত অস্কার জয়ী মুভি ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটটি ডেইস’ সিনেমার শ্যুটিংয়ের কিছু অংশ এখানে হয়েছিল। ঐতিহাসিক মুভির সেই শ্যুটিং স্পটটিকে শনাক্ত করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

আয়তনে ছোট হলেও দেশের চিরহরিৎ এই বন দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রাণির জীবন্ত সংগ্রহশালা। বনে প্রবেশের সাথে সাথেই নানা ধরনের বন্যপ্রাণী, পাখি এবং কীটপতঙ্গের শব্দ শোনা যায়। বনের মধ্যে প্রায় সারাক্ষণই সাইরেনের মত শব্দ হতে থাকে, এটি ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়।

লাউয়াছড়ার অন্যতম প্রধান প্রাণী হলো উল্লুক। উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে মায়া হরিণ, লজ্জাবতী বানর, বনরুই, গন্ধগোকুল, উল্লুক, বাগডাস, বন মোরগ, সজারু, অজগর সাপ, গুই সাপ, মুখপোড়া হনুমান, শিয়াল, মেছোবাঘ, চিতা বিড়াল, বন বিড়াল, বন্য শুকর, বেজি, কাঠবিড়ালী, বন্য কুকুর এবং আরও বিচিত্র প্রাণী রয়েছে।’

উদ্যানের বন্য পাখির মধ্যে সবুজ ঘুঘু, বনমোরগ, তুর্কি বাজ, সাদা ভ্রু সাতভায়লা, ঈগল, হরিয়াল, কালোমাথা টিয়া, কালো ফর্কটেইল, ধূসর সাত শৈলী, পেঁচা, ফিঙ্গে, লেজকাটা টিয়া, কালোবাজ, হীরামন, কালোমাথা বুলবুল, ধুমকল উল্লেখযোগ্য। সাধারণ দর্শনীয় পাখির মধ্যে টিয়া, ছোট হরিয়াল, সবুজ সুইচোরা, তোতা, ছোট ফিঙ্গে, সবুজ কোকিল, পাঙ্গা, কেশরাজ প্রভৃতির দেখা মিলে।

লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে রযেছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গর্জন, সেগুন, গামার, মেনজিয়াম, জামরুল, চাপালিশ, নাগেশ্বর, শিমুল, লোহাকাঠ, জাম, ডুমুর, তুন, কড়ই প্রভৃতি। নানা প্রকারের দেশি গাছও দেখতে পাওয়া যায়। ‘এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে নানা ধরণের অর্কিড দেখতে হলেও এ বন এক অপূর্ব স্থান।’

নিসর্গ প্রকল্পের অধীনে লাউয়াছড়া বনের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রকৃতি ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট হারে প্রবেশ মূল্য দিয়ে এ বনের ভেতর ভ্রমণ করা যায়। প্রকৃতি ভ্রমণের জন্য বনে তিনটি ট্রেইল বা হাঁটা পথ রয়েছে। তিনটি পথের মধ্যে একটি ৩ ঘণ্টার পথ, একটি ১ ঘণ্টার পথ আর অপরটি ৩০ মিনিটের পথ। প্রশিক্ষিত গাইডের সহায়তায় বনের একেবারে ভেতর পর্যন্ত যাওয়া যায়। প্রকৃতিকে বিরক্ত না করে তৈরি করা এ তিনটি পথে চোখে পড়বে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ, গাছপালা, পাখি ও অর্কিড। ভাগ্য ভালো হলে হনুমান, বানর এবং উল্লুকেরও দেখা মিলতে পারে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক প্রতিদিন লাউয়াছড়ায় প্রকৃতি ভ্রমণে আসেন। ‘বছরজুড়েই এই বনে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও শীতের সময় সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়।’

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশেই রয়েছে মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। এই নৃতাত্ত্বিক জনগুষ্টির মানুষজন সেই আদিকাল থেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে পাহাড়ে বসবাস শুরু করে। ‘তাদের মূল পেশা পান অর্থাৎ খাসিয়া পান উৎপাদন করে বাজারে আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করা। লাউয়াছড়ার একটু গভীরে প্রবেশ করলেই তাদের বাড়ি ঘর, জীবন যাত্রা সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাবে।’

ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সিলেট এস্কপ্রেস, টি আর ট্রাভেলস ইত্যাদি বাস যায় শ্রীমঙ্গলে। কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে ট্রেনে বেছে নিতে পারেন। ‘ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায় আত্মঃনগর ট্রেন পারাবত এস্কপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং উপবন এস্কপ্রেস।’

শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ-কমলগঞ্জের রাস্তায় ৭ কিলোমিটার সামনে এগোলেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ রোড থেকে বাসে জনপ্রতি ৬ টাকা, প্রাইভেট কার নিয়ে গেলে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, মিশুক নিয়ে গিলে ১৫০ টাকায় ঘুরে প্রকৃতি উপভোগ করে ফেরা যাবে।’

লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানের ভেতরেই রয়েছে ১টি ফরেস্ট রেস্ট হাউজ, যদিও ফরেস্ট অফিসারদের পূর্ব অনুমতি ছাড়া লাউয়াছড়া রেস্ট হাউজে থাকা যাবে না। এছাড়াও শ্রীমঙ্গল রাধানগর এলাকায় এসকেডি আমার বাড়ি, জঙ্গল রিসোর্ট, পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট ছাড়াও বাজেট আর সাধ্যের মধ্যে অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে। ‘প্রয়োজনে অনলাইনে বুকিং দিয়েও সরাসরি চলে আসতে পারেন মেঘের দেশ, চায়ের রাজধানী হিসেবে সমস্ত বিশ্বে সমাদৃত শ্রীমঙ্গলে।’

ট্রেন কিংবা বাস ভ্রমণ করে শ্রীমঙ্গলে নেমে শহরেই হবিগঞ্জ সড়কেই মিলবে এসি, নন এসি ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাসহ হোটেল স্কাই পার্ক’সহ কম বাজেটের হোটেল ইউনাইটেড, সবুজ বাংলা, মুক্ত, আল-রহমান, নীলিমা, মুন, সন্ধ্যাসহ ২৯টি হোটেল ও ২০-২৫টি সরকারি রেস্ট হাউজ। `হোটেলগুলোতে থাকতে আপনার ব্যয় হবে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত।,

স্বল্প খরচে খাবার জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে হোটেল পানসি, হোটেল কুটুমবাড়ি, লন্ডন হোটেলসহ অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কম বাজেটে তৃপ্তির সঙ্গে প্রায় সব খাবারই মিলবে রেস্টুরেন্টগুলোতে ।

ফেরার পথে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন মানের চা পাতা কেনা যাবে। `শহরের স্টেশন রোড এবং ভানুগাছ সড়কে বেশ কিছু টি শপও রয়েছে।,

from Sarabangla |  https://ift.tt/OuyHjkK via IFTTT

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন