আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ: মাওলানা মামুনুল হক
শফিকুল আলম শাহীন : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমরা ইসলামের সম্মান রক্ষা করার জন্য রাজনীতি করি। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।
এই ইসলামের ওপর আঘাত এলে একমুহূর্তের জন্য অতীতেও নীরব থাকেনি, ভবিষ্যতেও নীরব থাকবো না।বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষ মতবাদ নামক এই অভিশপ্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা যারা কায়েম করেছে সেই দলটার নাম হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ যারা করেছেন আগামীতে যদি করার ইচ্ছা থাকে তা হলে তাদের দুটি প্রশ্নের জবাব দিয়ে রাজনীতি করতে হবে। আল্লাহর আদেশ মানবেন, না ধর্ম নিরপেক্ষতা মানবেন?
আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নেত্রকোনার পূর্বধলায় আয়োজিত এক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলার লেটিরকান্দা মারকাযু শাহাবুদ্দীন আল ইসলামী মাদরাসা মাঠে এ মহাসম্মেলনের আয়োজন করেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম মাদানী।
মাওলানা আব্দুল কাইযুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মামুনুল হক আরও বলেন, আমাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে স্বৈরাচারী সরকার বারবার চেষ্টা করেছিল। বিগত সরকার এ দেশের আলেম সমাজের ওপর সবচেয়ে বেশি দমন-পীড়ন চালিয়েছিল।
গত ২০১৩ সালে আমাদের অসংখ্য ভাইকে শাপলা চত্বরে গুলি করে হত্যা করেছে এবং ২০২১ সালে নরঘাতক নরেন্দ্র মোদির আগমনে প্রতিবাদ করায় আমাদের হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও ছাত্রদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে।
সারাদেশে দেড় থেকে দুই হাজার আলেম ওলামাকে গ্রেপ্তার করে অন্ধকার প্রকোষ্টে নিক্ষেপ করেছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসররা মনে করেছিল, নির্যাতন করলে দমে যাবো। কিন্তু বারবার প্রমাণিত হয়েছে, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে অন্য কাউকে ভয় দেখানো যায়, কিন্তু ইসলামের সৈনিকদের দমিয়ে দেওয়া যায় না।
৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের কোথাও কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের নাটক নাই। আসলে বাংলাদেশে কখনোই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা হতো না। যেটা হতো, সেটার নাম হলো নাটক। এই নাটকের কলা-কুশীলব ছিল শেখ হাসিনা এবং তার দোসরেরা। এখন শেখ হাসিনাও নাই, নাটকও নাই।
সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা যুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি, মুফতি হাফিজ উল্লাহ কাসেমী, মুফতি আরিফ জব্বার কাসেমী, মৌলভী ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী প্রমুখ।

