পূর্বধলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে রোগী হয়রানি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কহিনুর আক্তার নামের এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রোগী হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি সেবাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থেকে প্রভাব বিস্তার করে আসা ওই কর্মচারীকে ঘিরে সম্প্রতি নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কহিনুর আক্তার একই বছরের ২২ অক্টোবর পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) হিসেবে পদায়ন পান এবং ২৪ অক্টোবর থেকে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং যথাযথ সেবা না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে বাধ্য করা হয়। টাকা ছাড়া সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

একাধিক রোগী জানান, হাসপাতালে আসার পরও তাদের বাইরে যেতে বলা হয় এবং টাকা না দিলে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। স্থানীয় কবি খোরশেদ আলী তালুকদার বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অফিস চলাকালীন সময়েও তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। ফলে সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকায় তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন, যার কারণে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রায়ই তিনি হাসপাতালে বায়োমেট্রিক হাজিরা দেওয়ার পর পরই হাসপাতাল ত্যাগ করে হাসপাতাল গেইটে ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান।

এব্যাপারে অভিযুক্ত কহিনুর আক্তারের সাথে কথা বললে, তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন। সেই সাথে সাংবাদিকরা তাকে একটু দেখে নেওয়ার আহ্ববান জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, ইতোমধ্যেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নেত্রকোণা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন
সবার আগে কমেন্ট করুন
কমেন্ট করতে ক্লিক করুন
comment url
গতকালের সেরা খবর
শিরোনাম...