প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- মিতু রানী দাসের অদম্য সাফল্যের গল্প
পূর্বধলা উপজেলা সদরের উত্তর রাজপাড়া এলাকার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মিতু রানী দাস ছোটবেলা থেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন লালন করে আসছেন।.....শফিকুল আলম শাহীন: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের উত্তর রাজপাড়া এলাকার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মিতু রানী দাস ছোটবেলা থেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন লালন করে আসছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক টানাপোড়েন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের পথে।
মিতু রানীর বাবা রঞ্জিত চন্দ্র দাস পেশায় একজন কর্মকার এবং মা একজন গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে মিতু ছোট।সংসারের সীমিত আয়ে মেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়লে বড় ভাই উত্তম চন্দ্র দাস এইচএসসি পাস করার পর নিজের পড়াশোনা স্থগিত রেখে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। প্রাপ্ত বেতন-ভাতার সিংহভাগই তিনি বোনের শিক্ষাব্যয়ের পেছনে ব্যয় করেন। পরিবারের এই ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সমর্থনই মিতুর চলার পথকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
মিতু জানান, এইচএসসিতে পড়ার সময় স্থানীয় প্রাইভেট শিক্ষক রামিম স্যারের নিয়মিত উৎসাহ ও দিকনির্দেশনাও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। সঠিক পরামর্শ আর মানসিক শক্তিই তাকে প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
তার শিক্ষাজীবনের শুরু পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০২৩ সালে মানবিক বিভাগ থেকে ময়মনসিংহ বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ–৫ অর্জন করেন। এরপর পূর্বধলা সরকারি কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ–৪.৬৭ ফলাফল অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশব্যাপী তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও মেধা তালিকায় ১৬৭৪তম স্থান অর্জন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন মিতু। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবেই এই অর্জনকে দেখছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মিতু রানী দাস বলেন, তিনি পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যুক্ত হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
মিতু রানী দাসের এই সাফল্য প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। তার এই অর্জন শুধু পরিবার নয়, বরং নেত্রকোনা জেলার অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্যও এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন