দুর্গাপুর সীমান্তে বন্যহাতির তাণ্ডব ঠেকাতে সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন
প্রায় প্রতিবছরই সীমান্ত এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে আদিবাসী ও বাঙালি কৃষক প্রাণ হারান। একই সঙ্গে নষ্ট হয় কৃষিজমির ফসল, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফলদ বাগান।দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: প্রায় প্রতিবছরই সীমান্ত এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে আদিবাসী ও বাঙালি কৃষক প্রাণ হারান। একই সঙ্গে নষ্ট হয় কৃষিজমির ফসল, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফলদ বাগান।
বন্যহাতির এই তাণ্ডব থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এসব হাতি কৃষকদের বোরো ধানের খেত, আম-কাঁঠাল ও কলার বাগান নষ্ট করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঘরবাড়িও ভেঙে ফেলে। হাতির আক্রমণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এ এলাকায়।
সর্বশেষ গত ৫ মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভবানীপুর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে পার্থ রাংসা নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির বিশেষ উদ্যোগে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিসাম বলেন, “হাতির আক্রমণে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর পর ডেপুটি স্পিকার মহোদয় দ্রুত প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেন। আজ আমরা ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট পেয়েছি। আলোর কারণে হাতি সাধারণত লোকালয়ে প্রবেশ করতে ভয় পায়। তবে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকার জন্য এটি যথেষ্ট নয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও লাইট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, “মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর ফলে স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙালি কৃষকদের জানমালের নিরাপত্তা অনেকাংশে বাড়বে।
পাশাপাশি বন্যহাতির মুখোমুখি হলে কী করণীয়, সে বিষয়ে বন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন প্রশাসক বজলুর রহমান আনছারীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন