পূর্বধলায় ইউ এন ওর সাথে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নিবন্ধনবঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা, শিক্ষকদের চাকরির স্বীকৃতি, এমপিওভুক্তি বা জাতীয়করণ এবং বেতন-ভাতার দাবিতেপূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নিবন্ধনবঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা, শিক্ষকদের চাকরির স্বীকৃতি, এমপিওভুক্তি বা জাতীয়করণ এবং বেতন-ভাতার দাবিতে স্মারকলিপিসদৃশ দাবি তুলে ধরেছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষক নেতারা ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শফিকুল ইসলাম সেকুল, সহসভাপতি মো. শাজাহান কবির, সদস্য ইদ্রিস আলী, হুগলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলী আজম, বড়রিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন, মেঘশিমুল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা।
শিক্ষক নেতারা বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করে আসছেন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শিক্ষক অবসরে গেলেও চাকরির স্বীকৃতি বা আর্থিক সুবিধা পাননি।
তাদের দাবি, পূর্বধলা উপজেলায় ৬২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র চারটি সরকারি নিবন্ধন পেয়েছে। বাকি ৫৮টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বাইরে থাকায় সেখানকার শিক্ষকরা সরকারি স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য, ১৯৭৮ সালে একই অধ্যাদেশের আওতায় নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের দাবি, এসব মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের সঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম জড়িত।
তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারের কাছে অবশিষ্ট স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা, শিক্ষকদের চাকরির স্বীকৃতি প্রদান, এমপিওভুক্ত বা জাতীয়করণ এবং বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে শিক্ষক নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক স্তরের ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর জন্য কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন