পূর্বধলা সরকারি কলেজ উপাধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের অপসারণ ও নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলেজের মূল ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়।ঘটনার পর কলেজ এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার কোনো ফুটেজও পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে উপাধ্যক্ষের অপসারণ ও কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রোববার সকালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা উপাধ্যক্ষের অপসারণ, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানান।
কলেজের নিরাপত্তাকর্মী মাফিজ উদ্দিন জানান, ভোররাত ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ দেখতে পান, হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি এগিয়ে গেলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পানি দিয়ে তিনি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন । এ সময় দরজার সামনে একটি পেট্রোলের বোতলও পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে আগুনে দরজার তেমন ক্ষতি হয়নি।
এদিকে উপাধ্যক্ষের অপসারণ ও কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর উপাধ্যক্ষের পক্ষে অপর একটি পক্ষ একই স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করে।
সম্প্রতি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পূর্বধলা সরকারি কলেজ নতুন করে আলোচনা আসে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের একদিন পরই তাঁর বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনের ক্রমিক নম্বর ০৪-এ উল্লেখিত অধ্যাপক (রসায়ন) মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত আদেশের সংযুক্ত অংশ বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে পূর্বধলা সরকারি কলেজে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পরই তাঁর পদায়ন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। মাত্র একদিনের ব্যবধানে অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিলের ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।
কলেজ সূত্রে জানাযায় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর থেকে প্রায় আট বছর ধরে কলেজটির উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
উপাধ্যক্ষের অপসারণ ও বিচার এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কলেজ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন বলেন, গত কয়েকদিন যাবত আমি অসুস্থ থাকার কারণে ছুটিতে ছিলাম। ইতোমধ্যেই আমার অনুপস্থিতিতে একজন অধ্যক্ষ কলেজে যোগদান করেন। আমি বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করে বলি আমার আর এক বছর আছে চাকরী। আমি ৩০ বছর এই কলেজেই আছি, আমি এই এলাকারই মানুষ। শান্তিপূর্ণভাবে আমি কলেজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এমতাবস্তায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় এটি করেছেন।
অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। কলেজের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলেজ এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন