পূর্বধলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্কুলের সভাপতিকে তুলে নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার অভিযোগঅভিযুক্ত অপর তিন আসামিরা হলেন উপজেলা সদরের পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন, দেওটুকোন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন সরকার এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক মাহমুদ।
আমিনুল ইসলাম পূর্বকন্ঠকে জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের এক আদেশে গত ১ নভেম্বর তাকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ পদে বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীনের ছেলে মোস্তফা মাসুম রিয়াজ মনোনীত না হওয়ায় ওই নেতা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
এ কারণে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে উপজেলা সদরের বাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায় আগিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারে সেলিম উদ্দীনের রাইস মিলের একটি কক্ষে। সেখানে সেলিম উদ্দীনের লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশসহ ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রথমে তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে ফোন করে জানান, আমিনুল ইসলাম নিজেই পদত্যাগ করতে এসেছেন। খবর পেয়ে তিনি রাইস মিলের চেম্বারে গিয়ে তাদের দেখতে পান।
সেলিম উদ্দীনের দাবি, আমিনুল ইসলাম আগেই তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি সভাপতি পদে থাকতে আগ্রহী নন। তার কথামতো ছোট ভাইয়ের দোকান থেকে পদত্যাগপত্র টাইপ করে আনা হয় এবং আমিনুল ইসলাম স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে তাতে স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অপর অভিযুক্ত পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন আমি সন্ধ্যায় দই খাওয়ার জন্য কুমারখালী বাজারে যাচ্ছি এ সময় রাস্তায় আমিনুল সাহেবের সাথে দেখা। তিনি বললেন তিনিও কুমারখালী যাবেন। আমি এই টুকু জানি। তাকে ভয়ভীতি দেখানোর প্রশ্নই আসে না।
দেওটুকোন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনাটি তার বাড়ির পাশেই ঘটেছিল। ওই সময় তিনি কুমারখালী বাজারে বসা ছিলেন। একসঙ্গে অনেক লোকের উপস্থিতি দেখে তিনি সেখানে যান। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন