শিরোনাম :

10/trending/recent

Hot Widget

অনুসন্ধান ফলাফল পেতে এখানে টাইপ করুন !

Ads

প্রতিদিন শতাধিক মানুষকে রান্না করা খাবার দিচ্ছেন কলেজছাত্রী

কুষ্টিয়া, ০৩ মে - করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিদিন কুষ্টিয়া শহরের শতাধিক মানুষের হাতে রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন বিথী আক্তার নামে এক কলেজছাত্রী। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বিথী আক্তার সেবা শ্রমের ভিত্তিতে নিজের ছোট ভাইকে সঙ্গে করে নিয়ে কাজটি করে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের কারণে যখন অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন সে সময় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিজে হাতে অসহায় মানুষের জন্য রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন। কলেজছাত্রী বিথী আক্তারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কালুয়াতে। আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করা ওই কলেজছাত্রীর বাবা রুহুল আমিন পেশায় একজন কৃষক। কৃষক কন্যা হয়ে যখন তার নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করতে প্রাইভেট টিউশনি করতে হয়। তখন সেই মেয়েটি অন্যদের মুখে আহার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রী নিবাসে থাকেন বিথী। করোনার কারণে দেশে অচলাবস্থা নেমে আসলে প্রথমে নিজের ছাত্রী নিবাসে খাবার রান্না করে তা গরিব মানুষদের দিতেন। পরে ওই ছাত্রী নিবাসের সামনে অনাহারী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে তিনি নতুন উদ্যোগ নেন। বন্ধুদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সহযোগিতা চলে আসে বিভিন্ন জায়গা থেকে। তার পাশে এসে দাড়ান বন্ধু মেহেদী হাসান। একে একে যোগ হয় ইন্টার্ন করা মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট শাহাবুদ্দিন শামীম, সাকিল ও জুয়েল রানা। এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান শিশির। সাংবাদিক প্রীতম মজুমদারও যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। বিথীর এই মহতি উদ্যোগের কথা জানতে পেরে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেনসহ অনেকেই আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন। সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলছে বিথীর করোনা জয়ের যুদ্ধ। যুদ্ধে শরিক হয়েছে ক্লাস নাইনে পড়া তার আপন ছোট ভাই সোহরাব। বিথীর বন্ধু মেহেদী হাসান বলেন, বিথীর উদ্যোগে আমরা নিজেদের যুক্ত করে গরিব অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিথী বলেন, আমার সাধ্য অনেক কম। শুরুতে আমি একা স্বল্প কয়েক জনের মধ্যে রান্না করা খাবার তুলে দিতে শুরু করি। জানতে পেরে এখন অনেকেই আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। চাল, ডাল, তেল কিনে দিচ্ছেন। রোজার প্রথম দিন থেকে আমি এভাবে প্রতিদিন শতাধিক মানুষের হাতে রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছি। শহরের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক তার রান্না ঘর আমাদের ব্যবহার করতে দিয়েছেন। আর আমরা রান্না করে সরবারাহ করছি। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে গত ৩৭ দিন মানুষের কোনো কাজ নেই। যারা দৈনিক হাজিরায় কাজ করেন তারা না খেয়ে থাকছেন। রোজার মধ্যে তাদের মাঝে এক বেলা খাবার দিতে পারায় তিনি অনেক খুশি । বিথী আরও বলেন, আমি যে ছাত্রী নিবাসে থাকি সেই এলাকায় অনেক মেস রয়েছে। সেখানে যে সব নারী রান্নার কাজ করেন, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে তাদের কোনো কাজ নেই। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতেই আমরা প্রথমে এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। আস্তে আস্তে সহযোগিতা বাড়ছে, আমরাও চেষ্টা করছি বেশি মানুষের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করতে। সূত্র : জাগো নিউজ এন এইচ, ০৩ মে


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Section