হাওরে ডুবছে ধান, বুকসমান পানিতে নেমে ফসল বাঁচাতে মরিয়া কৃষক
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে পানির স্তর। এতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধানের ক্ষেত।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। এতে হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডুবে যাওয়া ক্ষেত থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষক পরিবারগুলো। বুকসমান পানিতে নেমে চরম পরিশ্রম করে তারা যতটুকু সম্ভব ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কাটা ধান নৌকা বা ভেলায় করে বাড়িতে নিতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শেষ সম্বল রক্ষায় বাধ্য হচ্ছেন তারা।
শাল্লা উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “হাওরে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছি। যতটুকু পারি বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এত কষ্টে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
সদর উপজেলার কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, “পানির নিচে থাকা ধান কাটছি ঠিকই, কিন্তু ভেজা ধান শুকানোর কোনো উপায় নেই। রোদ না উঠলে ধান পচে যাবে। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
জাওয়ার হাওরের এক কৃষক বলেন, “একদিকে বজ্রপাত, অন্যদিকে বৃষ্টি—সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে নামতে হচ্ছে। এই ফসলই আমাদের সারা বছরের ভরসা।”
একই এলাকার কৃষক মন্নান আলী বলেন, “ঋণ করে চাষ করেছি। এখন শ্রমিক নেই, মেশিন নেই—তার ওপর নতুন এই দুর্ভোগ। সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “মঙ্গলবার থেকে আমরা মাঠে কাজ করছি। কোনো বাঁধে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব জমির ধান প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানানো হচ্ছে। সামনে পানি আরও বাড়তে পারে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসও অনুকূলে নয়।”
এদিকে হাওরের ফসল রক্ষায় চলতি মৌসুমে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। আগাম বন্যা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাঁধগুলোতে দিনরাত নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন