আশ্বাসে আস্থা, সহকারী শিক্ষক প্রার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা চলমান আন্পূর্বকণ্ঠ ডেস্ক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার-এর সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। সরকারের প্রতি আস্থা রেখেই তারা আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে প্রার্থীরা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান। একই সঙ্গে সোমবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে তার নিন্দা জানান আন্দোলনকারীরা।
এর আগে সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে চাকরিপ্রত্যাশীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন প্রার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরে যেতে ১০ মিনিট সময় দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু হয়, এতে কয়েকজন আহত হন।
তবে গিয়াস উদ্দিন মিয়া, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), মিরপুর মডেল থানা দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ কোনো ধরনের হামলা বা লাঠিচার্জ করেনি।
এর আগে রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সামনে অবস্থান নেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। পরে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম-এর সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের ভেতরেই কর্মসূচি পালন করেন।
পরে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে প্রার্থীদের ধৈর্য ধরে চলমান প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয় এবং জনদুর্ভোগ এড়িয়ে আন্দোলন স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমান নিয়মেই অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের নির্দেশনা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন