পূর্বধলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং জনদুর্ভোগ চরমে
শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বিদ্যুতের অস্থিরতা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। দিনে-রাতে একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো গ্রাহককে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থালী জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে বিশেষ করে নামাজের সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে মসজিদের মাইক্রোফোন চালানো থেকে শুরু করে অজু ও নামাজের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পড়া শোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের অভাবে দোকানপাটে ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আর গৃহিণীদের রান্নাবান্নায় নেমে আসছে বিপর্যয়।
শিক্ষকরা জানান, শ্রেণিকক্ষে ফ্যান বন্ধ থাকায় গরমে শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্র ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় বাড়ছে সেবার ব্যয়ও।
অপর দিকে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা মনগড়া বা ভুতুরে বিলের অভিযোগ তুলেছেন। গ্রাহকদের দাবি, প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হঠাৎ করে মাসে মাসে দ্বিগুণ বা তারও বেশি বিল আসায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পূর্বধলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম দুলাল হোসেন জানান, উপজেলা সদরের ইলাশপুর চৌরাস্থা ও জারিয়া সাবস্টেশন দুটির আওতায় প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছন। প্রতিদিন এসব গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু সরবরাহ মেলে মাত্র ৭-৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তাছাড়া গ্রিড থেকে স্ক্যাডারের মাধ্যমে লাইন কেটে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের কোনো হাত নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং শুধু তাদের জীবনে অসহনীয় দুর্ভোগই তৈরি করছে না, বরং শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

