নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রভাষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে তাঁর বেসরকারি নিয়োগের সময় প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে তাঁর বেসরকারি নিয়োগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়োগের সময় বিধি মেনেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।গত ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগকারী তাঁর লিখিত অভিযোগে নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি একজন প্রভাষক।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মোহাম্মদ আবু সায়েম ২০০৭ সালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি; শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। মৌখিক পরীক্ষায় দর্শন বিভাগে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন তিনি। পরে তাঁকেই নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, একটি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক হয় না। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী উপস্থিত হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের শর্ত পূরণ হয়নি। ফলে বিধি অনুযায়ী ওই নিয়োগ বৈধ হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধি অনুসরণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে তিনি নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি হন। সম্প্রতি তাঁকে নেত্রকোনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বেসরকারি নিয়োগটি যদি বিধিসম্মত না হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তাঁর বেসরকারি ও সরকারি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক বলেন, ২০০৭ সালে দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই নিয়োগ বোর্ডে তিনি ছিলেন এবং তৎকালীন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ওই সময় প্রত্যেক পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁরা উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন অভিযুক্ত প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম। তিনি বলেন, দুটি পদের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১১ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে দুটি পদের বিপরীতে তিনি ও অপর একজন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
তাঁর ভাষ্য, প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে এনে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাই নিয়মের কোনো হেরফের হয়নি। পরিচিত একজন প্রতিহিংসাবশত এ অভিযোগ করেছেন দাবি করে তিনি অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দ্রুতই অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বলা হবে।,

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন